ডাকাতিকালে ১১ ডাকাত আটক

বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ডলুরা গ্রামের অদুদ মিয়া ও জুলহাস মিয়ার বাড়িতে ডাকাতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১১ সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রসহ এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোররাতে উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের কাপনা গ্রামের জুলহাস মিয়া ও ডলুরা গ্রামের অদুদ মিয়ার বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দিলে কয়েক’শ এলাকাবাসী ডাকাতদলকে ঘেরাও করে আটক করে পুলিশ ও পার্শ্ববর্তী বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেয়। পুলিশ বেলা ১১ টায় ডাকাতদের বিশ্বম্ভরপুর থানায় নিয়ে যায়।
ডাকাতদের কাছ থেকে নগদ ৩৯০০ টাকা, একটি চেইন, দুটি মোবাইলসেট, রামদা, চাকু একটি চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ডাকাতদের হামলায় আহত হন কাপনা গ্রামের মো. সবুজ মিয়া (৪৫), তার ভাই জুলহাস মিয়া (৪০), জুলহাসের স্ত্রী মোছাম্মৎ জাহানারা (৩০), ছেলে মাহমুদ আক্তার ছোটন (১৩) ও মেয়ে কামরুন নাহার (১১)। এরমধ্যে সবুজ মিয়ার কান কেটে দিয়েছে ডাকাতরা। তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ডাকাতদের হামলায় ডলুরা গ্রামের হাসান আলী (৪০) আহত হয়েছেন।
আটককৃত ডাকাতরা হলো সুনামগঞ্জ পৌরসভার ষোলঘর এলাকার রুবেল মিয়া (৩০), কাপনা গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৩৫), বাহাদুরপুর গ্রামের কামাল মিয়া (৩৫), সিলেটের মানসিনগর গ্রামের আমিন মিয়া (২৮), হেংলাকান্দি গ্রামের মিজানুর রহমান (৪৫), নোয়াগাও গ্রামের আশরাফ আলী (৩৫), হবিগঞ্জের শিবপাশা গ্রামের সুমন মিয়া (২৫), দেবিপুর গ্রামের রাসেল মিয়া (৩০), শায়েস্তাগঞ্জ বাজারের এনাম মিয়া (৪০), জসিম উদ্দিন (৩০) ও সাদিকুর রহমান (২০)।
কাপনা গ্রামের জুলহাস মিয়া জানান, বাড়িতে নৌকা বানানোর দেড় লাখ টাকা এনে রেখেছিলেন তিনি। এই টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে ডাকাতরা। রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, পরিবারের একজন প্র¯্রাব করতে বাইরে কেরুতেই ডাকাতরা ঘরে ঢুকে মারপিট শুরু করে। প্রথমেই তার বড় ভাই জুলহাস মিয়াকে দা দিয়ে কোপ দেয়। এসময় তার কান কেটে যায়। এরপর তাকে বেধড়ক পেটায় তারা। তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে মারপিট করে।
ডলুরা গ্রামের অদুদ মিয়া জানান, প্রথমে রাত দেড়টার দিকে তাদের বাড়িতে ডাকাতরা হানা দেয়। দরজা ভেঙে ডাকাতদল ঘরে ঢুকলে আশপাশের লোকজন এবং তাদের ঘরের লোকজন ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করলে লোকজন বের হতে শুরু করে। এসময় ডাকাতরা তার চাচা হাসান আলীকে মারধর করে পালিয়ে যায়।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা মনির হোসেন জানান, সোমবার ভোরে জরুরী সেবার মেসেজ পেয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কাপনা গ্রাম থেকে ডাকাতদের আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে জুলহাস মিয়া বাদী হয়ে ডাকাতির মামলা করেছেন। মঙ্গলবার এদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।