ডাক্তার দরকার ১ লাখ, আছেন ২৮ হাজার

সু.খবর ডেস্ক
দেশে তীব্র ডাক্তার সংকটের কথা জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অন্তত এক লাখ। কিন্তু আছে ২৮ হাজার। চলতি বছর ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার পরও চিকিৎসক সংকট রয়ে যাবে। আবার নতুন ডাক্তার নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে তহবিল সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের সরবরাহের অভাব রয়েছে। ফলে এই সংকট দূর করার সহজ কোনো পথ নেই। চিকিৎসা অবকাঠামো নিয়ে বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের এক প্রশ্নের জবাব এই তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
পরে চাঁদপুরের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ডাক্তার সংকট নিরসনে বাস্তবধর্মী কোনো পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করেছে কি না, যে এত দিনের মধ্যে আমরা ডাক্তার সংকট পূরণ করবে।
এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী চিকিৎসক সংকট দূর করার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার কথা বলেন। তিনি জানান, চাইলেও সংকট দূর করার মতো চিকিৎসক পাওয়া যাবে না।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ৩০টি সরকারি ও ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে বছরে চিকিৎসক বের হয় নয় হাজার থেকে ১০ হাজার। কাজেই চাইলেও এই প্রয়োজনীয় লোকবল পাওয়া সম্ভব নয়। তবে পর্যায়ক্রমে ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে এটা পূরণ করে ফেলার কথাও বলেন তিনি।
চিকিৎসা খাতে বরাদ্দের অপ্রতুলতার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। বলেন, জাতীয় বাজেটের শতকরা ০.৯ শতাংশ বরাদ্দ আছে স্বাস্থ্যখাতে। এবার আবার আনুপাতিক হারে বরাদ্দ কমেছে।
নতুন যে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ হচ্ছে তাদের বেতন ভাতাতেই এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
রফিকুল ইসলাম আরও জানান, তার নির্বাচনী এলাকা হাজীগঞ্জ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স নেই পাঁচ বছর, শাহরাস্তিতে এক্সরে মেশিন নেই। বলেন, ‘ওনারা অনেকগুলো গাড়ি কিনবেন। আমার প্রশ্ন গাড় আগে দরকার নাকি অ্যাম্বুলেন্স আগে দরকার? আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন আগে দরকার, না গাড়ি দরকার। এক্সরে মেশিন দরকার নাকি গাড়ি দরকার?’
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্সও দরকার এবং যারা থানা হেলথ কমপ্লেক্সে দায়িত্বে আছেন, তাদের গাড়িও দরকার। অবশ্যই অ্যাম্বুলেন্সটা বেশি দরকার। সে জন্য আমরা অ্যাম্বুলেন্সই বেশি ক্রয় করে থাকি। সে জন্য গত কয়েক বছরে আমরা প্রায় ৪০০ অ্যাম্বুলেন্স ক্রয় করেছি। কিন্তু গাড়ি ক্রয় করেছি মাত্র ৫০টা। সেটাও এখনও বেশি ডেলিভারি হয়নি।’
‘এক্সরে মেশিন যদি না থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই সরবরাহ দেব। এক্সরে মেশিন অনেক সময় নষ্ট হয়, অল্প কিছু মেরামত করলে ঠিক হয়ে যায়। যদি মেরামত করা যায় আমরা মেরামত করে দেব। যদি মেরামত যোগ্য না হয় তাহলে নতুন মেশিন দেব। প্রতি বছর এক্সরে মেশিন আমরা অনেক কিনে থাকি, এটা আমরা দিয়ে দেব।’
এর আগে আবদুল মান্নানের প্রশ্নে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশেও যদি কেউ ভেজাল ওষুধ উৎপাদন করে, আমরা ব্যবস্থা নেই। আমাদের ওষুধ প্রশাসনের লোকজন যায়, ফ্যাক্টরিতে যায়, বিভিন্ন ফার্মেসিতে যায়, সেগুলো ধরা হয়, ব্যান করা হয় ইভেন সামটাইমস দে আর থ্রোন বিহাইন্ড দ্য বার এবং উইথ সিরিয়াস প্যানাল্টি ইমপোজড অন দেম।’
‘এখানে আমরা প্রায় ৩০টা ওষুধ কোম্পানিকে বন্ধ করে দিয়েছি। তারা খারাপ ওষুধ তৈরি করেছে। কিছু কোম্পানি হাইকোর্ট অর্ডারে ওপেনড আপ হয়েছে। আদারওয়াইজ উই ডোন্ড এন্টারটেইন দোজ।’
ওষুধের দামের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোম্পানি প্রাইস দেয়, ওষুধ প্রশাসন যেখানে ট্যাক্সেশনের বিষয়টা থাকে সেইটুক দিতে পারে। কিছু এসেনশিয়াল ওষুধ সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ করছি। কোনো কোম্পানি সেগুলো হাত দিতে পারে না। এ বিষয়ে কোনো কমপেইন আমরা পাই না।’