ডা. মধু সুদন ধর’র বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধব

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরবাসীর ‘গরীবের ডাক্তার’ খ্যাত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধু সুদন ধর এর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে স্থানীয় পৌর পয়েন্টে জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেনের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, পৌর সভার প্যানেল মেয়র সাফরোজ ইসলাম, কাউন্সিলর সফিকুল হক, কামাল হোসেন, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শংকর রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সূত্রধর, ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন ভূইয়া, ছালিক আহমেদ, সমাজকর্মী সৈয়দ জিতু মিয়া, শামীম আহমেদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জগন্নাথপুরের হাসপাতালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন জগন্নাথপুরের সন্তান ডা. মধু সুদন ধর। সবাই তাঁকে গরীবের ডাক্তার বলেন। মানবিক কাজে তাঁর অবদান প্রসংশনীয়। তাকে জড়িয়ে মামলা দায়ের করায় জগন্নাথপুরবাসীর হৃদয়ে রক্ত—ক্ষরণ হচ্ছে। এসময় বক্তারা দ্রুত এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, একজন ভালো মানুষ ডা. মধু সুদন ধর। তিনি বিনা টাকায় রোগি দেখেন। তাঁকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় জগন্নাথপুরবাসী কষ্ট পেয়েছেন।
জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও গ্রামের আব্দুল হামিদ (৫০) শ্বাসকষ্ট নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরদিন রাত ১২ টার দিকে আব্দুল হামিদ মারা যান। পরে ওই রোগির স্বজনরা নার্স ও চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট অর্থপেট্রিক রাজিব পালকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নার্স তাহমিনা বেগমের দায়িত্ব অবহেলার কথা উল্লেখ করে ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে ওই তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। পরে এ ঘটনায় মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির স্বজনরা সুনামগঞ্জ আদালতে মামলা করেন।