ডেঙ্গু আতঙ্ক যেন ঈদের আনন্দকে ম্লান না করে

ঈদে রাজধানী থেকে বিভিন্ন জনপদে ফিরতে থাকা জন¯্রােতের মাধ্যমে সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও অল্পবিস্তর এখনই ছড়িয়ে পড়ছে এই ভয়ানক অসুখটি। সুনামগঞ্জে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ২১ রোগীর সন্ধান মিলেছে। তবে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি আসার জন্য অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই জীবাণুটি ব্যাপকাকার ধারণ করতে পারে। ঢাকা থেকে যারা বাড়ি আসবেন তাদের মধ্যে যাদের ডেঙ্গু হওয়ার মতো লক্ষণ রয়েছে তাদেরকে রক্ত পরীক্ষা করে বাড়ি ফিরার জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছেন। যানবাহন ও যাত্রীদের জন্য সরকার এজন্য কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শও জারি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুরোধ হলো নিজেকে রক্ষা করার পাশাপাশি একটি অঞ্চলকে রক্ষা করতে সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য। কারও রক্তে ডেঙ্গু জীবাণুর উপস্থিতি থাকলে তিনি নিজেকে যেমন রক্ষা করতে পারবেন তেমনি তিনি সচেতন থাকবেন যাতে অন্তত তার মাধ্যমে এই জীবাণুটি ছড়িয়ে পড়তে না পারে। আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রীর এই সুবিবেচনাপ্রসূত পরামর্শটি সকলের অনুসরণ করা জরুরি।
ডেঙ্গু মোকাবিলা নিয়ে সার্বিকভাবে আমাদের প্রস্তুতি ও সমন্বয়হীনতার বিষয়টি প্রকট। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মূল যে কাজ- মশক নিধন অভিযান, কেন জানি সারা দেশব্যাপী সেটি জোরদার করা যাচ্ছে না। দায়িত্বশীলরা ডেঙ্গু নিয়ে অহেতুক অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলছেন। একজন প্রতিমন্ত্রী বলছেন, ডেঙ্গু নাকি এলিট মশা, উন্নয়নের পথ ধরে এই মশা বিদেশ থেকে এসে থাকে। এমন অর্বাচীন ও অনভিপ্রেত কথাবার্তা মূল সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। পাশাপাশি এসব অসংলগ্ন কথাবার্তাকে সরকারের উদাসীনতা রূপে প্রচার করার সুযোগ তৈরি হয়। দায়িত্বশীল জায়গায় বসে দায়িত্বশীল আচরণ করার সংস্কৃতি আমরা এখনও রপ্ত করে উঠতে পারিনি। উন্নয়নের পাশাপাশি এই সংস্কৃতি শেখা অতিশয় জরুরি।
প্রচারণার অংশ হিসাবে সুনামগঞ্জের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কিন্তু পুরো জনপদের যেখানে যত আবর্জনা ও ময়লা ছিল সেগুলোর অধিকাংশই আগের মতো আছে। মশা নিধনের জন্য ঔষধ স্প্রে করার কোন উদ্যোগ নেই। এই ধরনের কথাসর্বস্ব কিন্তু বাস্তব উদ্যোগহীনতা মশার বংশবিস্তারকে কীভাবে রোধ করবে আমরা জানি না। সামাজিক আন্দোলন হিসাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু না হলে এবং ব্যাপক মশক নিধন কর্মসূচী শুরু না করলে মশাবাহিত যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়ার পথ নেই। এ বিষয়টি সকলকে বুঝতে হবে।
ডেঙ্গুকে শুধু এই বছরের বিপদ বলে দেখার খামখেয়ালী চিন্তা-ভাবনা পরিহার করতে হবে। কারণ প্রতিবছরই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার ধারাবাহিকতা দেখা যায়। এই জীবাণুবাহিত রোগটি নিজের চরিত্রও অনেকাংশে পালটে ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। ডেঙ্গু সিম্পটম এখন অনেক বেশি জটিল। তাই একদিকে চিকিৎসক সমাজকে এই রোগের কার্যকর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে অন্যদিকে এডিশ মশাকে চিরতরে নির্মূল করার উপায় উদ্ভাবন করতে হবে। ডেঙ্গুকে চিরতরে বিদায় করতে দরকার ধারাবাহিক কর্মসূচী। এজন্য সরকার পৃথক একটি কর্মসূচীই বাস্তবায়ন করতে পারেন। যেভাবে ম্যালেরিয়া বা যক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল তেমন করেই ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করতে হবে। নতুবা বছর বছর এই বিপদের পরিধি বাড়বে।
আজকের পর ঈদের আগে আর দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর প্রকাশিত হবে না। তাই আমরা আমাদের সকল পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, বিপণনকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই ঈদ মোবারক। ডেঙ্গুর আতঙ্ক মুক্ত হয়ে যেন আসন্ন ঈদ সকলে উদযাপন করতে পারেন সেটিই আমাদের কামনা।