- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

ডেঙ্গু দমনে সর্বাত্মক অভিযান চালানো প্রয়োজন

ডেঙ্গু দমনে মশক নিধনের পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেয়া- অর্থাৎ সঠিক মানের ওষুধ সংগ্রহ এবং সে ওষুধ যথাযথভাবে প্রয়োগের ব্যবস্থা করা উচিত। এটা প্রতিহত করা কি খুুব কঠিন, যদি নিয়ন্ত্রক স্তরে, উচ্চ স্তরে সদিচ্ছা থাকে। সেখানে গাফিলতি মানেই সেখানে ত্রুটি অর্থাৎ ছিদ্র এবং সেই ছিদ্রপথে ডেঙ্গুর মতো শনির প্রবেশ। মানে ভোগান্তি এবং কখনো মৃত্যু।
একাধিক ক্ষেত্রে প্রকৃত তথ্য বলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাস্তবে প্রবল গাফিলতি তৎপরতার নিশ্চিদ্র পথে ছিদ্র তৈরি করেছে। সেই ছিদ্রপথে ডেঙ্গুর প্রবেশ। তাই সঙ্গত কারণে একটি দৈনিকে বড় অক্ষরে শিরোনাম- ‘গাফিলতিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ’। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ খবরটি হলো- দেড় যুগ ধরেই মানহীন মশক নিধন ওষুধ ব্যবহার চলছে। এ দুটি খবরের ভিত্তিতেই বলা চলে- এ বছর এই ব্যাপক হারে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়ার পেছনে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের ব্যক্তিদের দায়িত্বহীনতা, সেইসঙ্গে মানহীন মশক নিধন ওষুধ ক্রয়ের দুর্নীতি বা অনৈতিকতা। এই গাফিলতি ও দুর্নীতির দায়ে মশককুলের শ্রীবৃদ্ধি, তাদের মুক্তডানা বিচরণ, নিরীহ নাগরিকদের আক্রমণ এবং পরিণামে শতাধিক মানুষের মৃত্যু। এ মৃত্যুর দায় কে বহন করবে?
সাত বছর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রকোপ সম্পর্কে যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিল, সে সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সতর্ক করেনি করপোরেশন দুটিকে এ বিষয়ে যথোচিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। করপোরেশন প্রধানেরও বোধ হয় এসব ভয়ানক সতর্কবাণীর দিকে কোনো নজর ছিল না।
ডেঙ্গুবাহী মশার অবাধ ও নির্বিবাদ বংশ বিস্তার, ডেঙ্গুর মহামারি রূপ ধারণ, হাসপাতালগুলোর অসহায় বেসামাল অবস্থা এবং আরো অপ্রত্যাশিত মৃত্যু- এটাই এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতির বাস্তব চালচিত্র। এ অবস্থায় একটু আগে যা বলা হয়েছে সেটাই কর্তব্য- অর্থাৎ জরুরি ভিত্তিতে সর্বাত্মক অভিযান চালানো এবং তা যাতে ডেঙ্গুর আক্রমণে আর একটিও মৃত্যু সংঘটিত না হয়। কারণ জীবন বড় মূল্যবান। একবার গেলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না।