ঢাকায় সুনামগঞ্জের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আদনান গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়ে গুজবরটনাকারী সন্দেহে ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (আইইউবি) ইলেকট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ফয়েজ আহমদ আদনানও আছেন।
তিনি ছাতক উপজেলার সদর ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের সৌদিপ্রবাসী ব্যবসায়ী জামিল আহমদের ছেলে। গত ৬ আগস্ট ঢাকায় পুলিশ অন্যদের সঙ্গে তাঁকেও গ্রেপ্তার করে। তবে পরিবারের দাবি, ফয়েজ আহমদ আদনান ছাত্রআন্দোলনে জড়িত ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে আদনান ও তাঁর দুই বন্ধুর কাছ থেকে পুলিশ তাদের মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কি করায় তাঁদের আটক করা হয়। আদনান নির্দোষ। সে কোনো রাজনীতি করে না। কোনো ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয়।
জামিল আহমদ জানান, তিনি ৩২ বছর ধরে সৌদি আরবে আছেন। সেখানে তাঁদের ব্যবসা রয়েছে। তার পাঁচ ছেলেমেয়ের সবার জন্ম সেখানে। ছেলেমেয়ের মধ্যে আদনান তৃতীয়। তাঁর সন্তানেরা লেখাপড়ায় মেধাবী। বড় এক মেয়ে ও এক ছেলে উচ্চ শিক্ষার্থে কানাডায় আছেন। তাঁরাও প্রথমে সিলেটের স্কলার্স হোম এবং পরে আইইউবিতে লেখাপড়া করেছেন। ছোট দুই মেয়ে পড়েন সিলেটে। সিলেটে তাঁর একটি বাসা আছে। ওই বাসাতেই এখন স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে আছেন তিনি। ফয়েজ আহমদ আদনান সিলেট স্কলার্স হোম কলেজে লেখাপড়া করেছেন। এরপর ভর্তি হয়েছেন আইইউবিতে। ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি।
জামিল আহমদ আরও জানান, ৬ আগস্ট আদনানের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে আরও দুই বন্ধুর সঙ্গে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। পথে পুলিশ তাঁদের আটক করে সবার মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেয়। তখন এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশ তাঁদের ধরে নিয়ে যায়।
জামিল আহমদ বলেন, আমরা বাবা জীবনভর আওয়ামী লীগ করছেন, এলাকায় সবাই একনামে তাঁকে চেনে। কিন্তু আমি ও আমার সন্তানেরা কোনো রাজনীতি করি না। আমার ছেলেমেয়েরা সবাই মেধাবী। আদনান ভালোভাবে বাংলাও বলতে পারে না। দেশ-রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর ধারনা কম। পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। সে নির্দোষ। আমরা দ্রুত তাঁর মুক্তি চাই।
ছাতকের মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা ছাতক সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুহিবুর রহমান বলেন, ‘এই পরিবারটি এলাকায় বেশ পরিচিত। পরিবারটি নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। জামিল আহমদ ও তাঁর ভাইয়েরা দীর্ঘদিন থেকে সৌদি আরবে আছেন। সেখানে তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা আছে। এক সময় জামিল আহমদের বাবা আওয়ামী লীগ করতেন। এরপর পরিবারের কেউ আর রাজনীতিতে জড়িত হয়নি। ছেলে হিসেবে আদনান খুবই ভদ্র ও শান্ত বলেই আমরা জানি।