ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে আসা ৩৪ বাসে এডিস মশা আসার আশংকা

আসাদ মনি
বাসযোগে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে এডিস মশা আসার আশংকা করছেন দায়িত্বশীলরা। ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে প্রতিদিন ৩৪ টি বাস আসে। এছাড়া একাধিক মাইক্রোবাসে করে পর্যটকরা আসেন জেলা শহর সুনামগঞ্জে। এসব বাস এবং মাইক্রোবাস করে এডিস মশা সুনামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একইভাবে বাইরের জেলা থেকে আসা চাষের মাছের ড্রামে করেও এডিসের লার্ভা আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
ঢাকা থেকে প্রতিদিন সুনামগঞ্জের উদ্দ্যেশে ছেড়ে আসা বাসের সংখ্যা ৩৪ টি। এসব বাসে মশা নিরোধক কোনো স্প্রে বা ওষুধ দেওয়া হয় না। এই নিয়ে চিন্তিত জেলার দায়িত্বশীলরাও।
ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে আসা বাসের মধ্যে রয়েছে, মামুন পরিবহন ৮ টি, শ্যামলী পরিবহন ৮ টি, এনা পরিবহন ৭ টি, হানিফ পরিবহন ২ টিসহ, আল-মোবারক, লিমন, আশা, মিতালী, এনপি, বিশাল, সাকিন, কর্ণফুলী, আরপি, আল-শামীম পরিবহনের ১ টি করে বাস।
কোন পরিবহন মশা নিরোধক স্প্রে ব্যবহার করছে না।
অবশ্য মামুন পরিবহনের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন দাবি করেছেন, ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে গাড়ী ছাড়ার সময় মশা নিরোধক অ্যারোসল স্প্রে করেন তারা। শ্যামলী পরিবহনের সুনামগঞ্জ কাউন্টারের দায়িত্বশীলরা একই মন্তব্য করেন।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অব. অধ্যাপক শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বলেন, কেবল যাত্রীবহনকারী বাস নয়, বাইরের জেলা থেকে আসা চাষের মাছের ড্রামে করেও এডিসের লার্ভা আসতে পারে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৭ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্ত সবাই ঢাকায় কাজ করতেন বলে জানা যায়।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ৫ জনকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তরা হলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের মোজাহিদ মিয়া, সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের পুরান লক্ষণশ্রী গ্রামের জাহির মিয়া, ষোলঘরের ফাহিম আহমদ, মাইজবাড়ীর মাছুম মিয়া, মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের কবির, মল্লিকপুরের গিয়াস উদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের ইয়াসিন মিয়া। তারা সবাই ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ইয়াসিন মিয়ার বড় ভাই মো. মিজান মিয়া বলেন, ‘আমার ভাই ঢাকায় মুড়ির মিলে কাজ করতো। কয়েকদিন জ্বরে ভোগার পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করে এই জ্বর সনাক্ত হয়। সেখানে কোনো আত্মীয়-স্বজন না থাকায় আমি ঢাকায় গিয়ে ইয়াসিনকে সুনামগঞ্জ নিয়ে আসি। সুনামগঞ্জে এনে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
জাহির মিয়া’র বাবা আব্দুল কদ্দুস বলেন, আমার ছেলে ঢাকার আজিমপুরে বিল্ডিংয়ের কাজ করতো। হঠাৎ করে জ্বর আসলে ফামের্সি থেকে ওষুধ নিয়ে খেলেও জ্বর কমেনি। এরপর তার বন্ধু সুনামগঞ্জের বাসে তাকে তুলে দেয়। সুনামগঞ্জ আসার পরই আমরা তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানালেন, জাহির মিয়া সুস্থ হয়ে বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরেছেন।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ বলেন, সুনামগঞ্জে ৭ জনকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বলে সনাক্ত করা হয়েছে। ৫ জনকে সিলেট প্রেরণ করা হয়েছে। আক্রান্তরা সবাই ঢাকায় কাজ করতেন। সুনামগঞ্জে এডিস মশা নেই। তবে ঢাকা থেকে আসতে পারে। এজন্য ঢাকা থেকে আসা বাসগুলোতে ছাড়ার ১৫-২০ মিনিট আগে মশা নিরোধক ওষুধ দিতে হবে। সকলকেই এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি জানালেন, ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যানারসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে । ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে আসা বাসগুলোতে মশার ওষুধ ভালভাবে স্প্রে করতে বাধ্য করতে হবে।