তত্ত্ব উপাত্ত্ব সংগ্রহ করলো বাপেক্স’ এর ভূতাত্ত্বিক দল

স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহ্পুর ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের এক হাটিতে ক্ষণে ক্ষণে রহস্যজনক আগুন লাগায় ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বাপেক্সের ভূতত্ব বিভাগের একটি দল। এসময় বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় বাপেক্স’এর ভূতত্ত্ব বিভাগের গবেষকদল শালমারা গ্রামের ৬টি পরিবারের বসতঘরসহ বাড়ির বিভিন্ন স্থানের নরম মাটি, ফাটল, টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন স্থান পরীক্ষা নিরিক্ষা করেন। বাড়ির লোকজনের সঙ্গেও কথা বলেন। বাড়ি’র লোকজন গত প্রায় ২২ দিন ধরে ক্ষণে ক্ষণে খরের ভোলা, ঘরের শাড়ি, লুঙ্গি, বিছানাপত্রে আগুন লাগার বিষয়টি জানান। বাপেক্স’এর ভূতাত্ত্বিক জরিপ দল আগুনে পুড়া চোপড়সহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
বাপেক্স’এর সিলেট অফিসের ভূতত্ত্ব বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ও উপ ব্যবস্থাপক মো. হামিদুজ্জামান ভূতত্ত্ব গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন। বিশেষজ্ঞদলের সঙ্গে ছিলেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস, উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ হিমাংশু রঞ্জন সিংহ, স্থানীয় ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান রঞ্জিত চৌধুরী রাজন প্রমুখ। বাপেক্স’এর কর্মকর্তারা পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়া এই বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।
বাপেক্স’এর সিলেট অফিসের ভূতত্ত্ব বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানালেন, তথ্য উপাত্ত্ব পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে জানাতে হবে কেন ক্ষণে ক্ষণে এই বাড়িতে আগুন ওঠছে।
জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শালমারা গ্রামের ১০টি পরিবারের অর্ধশত মানুষ আগুনের আতঙ্কে দিন-রাত পার করছেন। অজ্ঞাত উৎসের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে বসতঘর, বাড়ির আঙ্গিনা, খড়ের পালা বা ভোলা, কাপড় ও বিছানাপত্রে। বুধবার সকালে উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের কানু দে, চ-ী চরণ দে, রূপক দে, বাবুল দে ও রানু দের ঘরসহ ১০টি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অজ্ঞাত উৎসের আগুনে পুড়ে যাওয়ায় পরিধেয় বস্ত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী বাড়ির আঙ্গিনায় স্তুপ করে রেখেছেন। আগুন লাগার শুরুতে ধোঁয়া ওঠে। পরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে। কখন কোন দিকে আগুন লাগবে, তা কেউ জানে না। সেজন্য বালতি ড্রাম ভর্তি করে আগুন নেভানোর জন্য পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক কানু দে জানান, ২৪ জুলাই সকালে তিনি বসত বাড়ির আঙ্গিনায় বসে ছিলেন। এমন সময় খড়ের ঘর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে তিনি এগিয়ে যান। বাতাসে খড়ের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। পরে চিৎকার দিলে পাড়া প্রতিবেশী ও প্রামের লোকজন এসে আগুন নেভায়।
চ-ী চরণ দে বলেন, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি বসতঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রোদে শুকাতে দেওয়া কাপড়গুলো অনেক সময় আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এক জায়গার আগুন নেভাতে না নেভাতেই অন্য জায়গায় আগুন লেগে যায়।
ইউপি সদস্য বিজয় কর বলেন, জুলাই মাস থেকে এভাবে আগুন লাগার ঘটনা চলে আসছে। প্রথমে কেউ গুরুত্ব না দিলেও বিশ্বম্ভরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা আস্বাভাবিক আগুন লাগার কারণ উদঘাটন করতে শালমারা গ্রামে এসেছিলেন। তারা ওই বাড়িগুলোতে এক রাত অবস্থান করেন। তারা থাকার সময়েও বাড়িগুলোতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। কোথা থেকে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন নির্ণয় করতে পারেনি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন ইনচার্জ হিমাংশু রঞ্জন সিংহ বলেন, এভাবে আগুন লাগলে আতঙ্কিত না হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয় এ বিষয়ে তাদের কোনও ধারণা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আগুন নেভানোর কলাকৌশল বলে দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই বাড়িগুলোতে অবস্থানকালেও অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। কোনও ধরনের নিস্ক্রিয় গ্যাসের কারণে এরকম হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনকে এবিষয়ে একটি প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ^াস বলেন, কয়েকদিন ধরেই বিকাল থেকে রাতে কয়েকবার সালমারা’র এই বাড়ি’র বিভিন্ন বস্তুতে আগুন লেগে যাচ্ছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রথমে কয়েক দফায় এই বাড়িতে গেছেন। পরে বাপেক্স’এর কাছে এই বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়। তারা এখানকার তত্ত্ব উপাত্ত্ব নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাবার পর পরবর্তী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।