তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি স্থানীয়দের মধ্যে

বিশেষ প্রতিনিধি ও সোহেল তালুকদার
সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের প্রশস্তকরণের কাজের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। গেল দুই বছর ধরেই বলা হচ্ছিল সড়কের দুই পাশে তিন ফুট করে প্রশস্ত হবে। সড়কটি আঞ্চলিক থেকে মহাসড়কে রূপান্তর হবে। দরপত্র নিয়ে মামলা জটিলতার কারণে বরাদ্দ প্রাপ্তির পরও গেল দুই বছর সড়কের কাজ শুরু হয়নি। সম্প্রতি সড়কের কাজ শুরু হলেও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা বলেছেন,‘জেলাবাসীর প্রধান এই সড়ককে মহাসড়কে উন্নীত করণের কাজ সঠিক হচ্ছে কী-না তা দেখভালের জন্য প্রশাসনের উদ্যোগেই একটি নাগরিক কমিটি হতে পারে।’
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের অনেক অংশে কোনভাবেই দুটি বড় গাড়ি ক্রস করতে পারে না। এছাড়া শান্তিগঞ্জ, পাগলাবাজার, জাউয়াবাজারসহ অনেক স্থানে এতোই ভাঙাচোরা যে যানবাহন চলাচল করাই কষ্টদায়ক।
জেলার একমাত্র সড়কের বেহাল অবস্থা দূর করার জন্য ২০১৬ ইংরেজির ডিসেম্বর মাসে প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্যাকেজের এই দরপত্রে অ্যানুয়েল প্রকিউরমেন্ট প্লানে ত্রুটি থাকায় পুনরায় সংশোধিত দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।
২০১৭’এর জানুয়ারি মাসে আবার মার্কিন সিস্টেমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। অংশগ্রহণ করেন ৫ জন ঠিকাদার। সর্বনি¤œ দরদাতা হয় জয়েন্টভেঞ্চারে তমা কন্সট্রাকসন ও সজিব রঞ্জন দাস। সওজ’এর উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে এই দরপত্র বাতিল করা হয়।
সওজ’এর সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক অফিস গত বছরের এপ্রিল মাসে তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করে। এই দরপত্র গ্রহণের আগেই এর আগের দরপত্রে সর্বনি¤œ দরদাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আদালতে রীট করা হয়। আদালত এই রীটের প্রেক্ষিতে দরপত্র কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।
গত মে মাসে আদালত দরপত্র কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করলে সেপ্টেম্বর মাস থেকে সড়কের প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়।
কাজের দরপত্রের শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ছাপা হয়েছে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক আঞ্চলিক থেকে মহাসড়কে উন্নীত হচ্ছে। সড়কটি দুই পাশে ৩ ফুট করে প্রশস্ত হবে। প্রশসআতকরণ কাজ শুরু হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে কোথাও এক ফুট, কোথাও দেড় ফুট আবার কোথাও ৩ ফুট প্রশস্ত হচ্ছে। একেক স্থানে একেক পরিমাপে প্রশস্তকরণ কাজ হওয়ায় স্থানীয়রা সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে কী-না এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
সিপিবি’র সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ বললেন,‘সরকার বরাদ্দ দেয়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই কাজে অনিয়ম হয়। সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক সড়ককে মহাসড়কে উন্নীত করার কথা গেল দুই বছর থেকেই শুনে আসছি আমরা। এখন কাজও শুরু হয়েছে। কিন্তু যেভাবে শুনেছিলাম, সেভাবে কাজ হচ্ছে না। সড়কের দুই পাশে তিন ফুট করে প্রশস্ত করার কথা ছিল। এখন দেখছি, কোথাও এক ফুট, কোথাও বা দুই ফুট প্রশস্ত হচ্ছে। কাজে অনিয়ম হচ্ছে কী-না, সংশ্লিষ্ট সকলেরই দেখা প্রয়োজন।’
জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বললেন,‘সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক সড়ককে মহাসড়কে উন্নীত করার। মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রচেষ্টায় এই দাবি’র বাস্তবায়ন হতে চলেছে। আমরা চাই যথাযথভাবে এই সড়কের উন্নয়ন হোক। এটি যেহেতু একটি বড় কাজ তাই কাজের মান সুষ্ঠু হচ্ছে কী-না তা দেখভালের জন্য প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি কমিটি হতে পারে।’
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম বলেন,‘সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের প্রশস্তকরণের কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। ইতিমধ্যে ১৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এই কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে বা পরে এই কাজ সমাপ্ত করতে কোন বাধা থাকবে না।’
সওজ’এর সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ারুল আমিন বললেন,‘সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সুনামগঞ্জ বাইপাস অংশ থেকে ৬৭ কিলোমিটার সড়কের প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। সিলেট অংশে বরাদ্দ প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সুনামগঞ্জ অংশে ৮০ কোটি টাকা। এই কাজটি আরও ২ বছর আগে শুরু হবার কথা ছিল, মামলার কারণে করা যায়নি। আগামী জুন মাসে কাজের মেয়াদ শেষ। কিন্তু এই সময়ে কাজ শেষ করা যাবে না। এজন্য আমরা সময় বাড়ানোর আবেদন জানাবো। সড়কের প্রশস্তকরণের কাজ যথাযথভাবেই হচ্ছে। সড়কটি ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত হবে। সকল স্থানে ৩ ফুট বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। যেখানে সড়ক ১৮ ফুট আছে সেখানে ৩ ফুট করে ৬ ফুট, যেখানে ২০ ফুট আছে, সেখানে ২ ফুট করে ৪ ফুট, যেখানে ১৭ ফুট আছে সেখানে দুই পাশে ৭ ফুট প্রশস্ত করে ২৪ ফুট করা হবে। কাজে কোন অনিয়মের অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’