তথ্য সবার অধিকার : থাকবে না কেউ পেছনে আর

মরতুজা আহমদ
মানুষের তথ্য জানার ধারণাটি মানব সভ্যতার ঊষাকাল থেকেই পৃথিবীতে বিরাজমান। তবে তথ্য জানার অধিকার বা তথ্যে প্রবেশাধিকার অর্জন হয়েছে অনেক বিবর্তনের মাধ্যমে। ১৯৬৬ সনে সুইডেনে প্রথম তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আইন প্রণীত হয় এবং সে দেশে জনগণের তথ্য প্রাপ্তির আইনী ভিত্তি রচিত হয়। তারও অনেক পর ২০১২ সনের ২৮ সেপ্টেম্বর বুলগেরিয়ার রাজধানী সুফিয়াতে বিশ্বব্যাপী মানুষের তথ্য অধিকার আন্দোলনে সম্পৃক্ত সকল সংগঠন একত্রিত হয়ে FOI (Freedom of Information) Network গঠন করে। নেটওয়ার্কের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেয়, বিশ্বের সকল দেশ ২৮ সেপ্টেম্বর নিজ নিজ পরিমন্ডলে তথ্য অধিকার বিষয়ে নিজস্ব ধ্যান ধারণা ও সাফল্য গাঁথা প্রচার করবে যাতে সকল মানুষের তথ্যে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়, স্ব স্ব দেশে প্রয়োজনীয় আইন, নীতিমালা, কাঠামো তৈরি হয় এবং এজন্য বাস্তবিক অর্থে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। অবশেষে ইউনেস্কো তার ৩৮ সি/৫৭ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর “International Day for Universal Access to Information (IDUAI)”   হিসাবে পালনের ঘোষণা দেয়। ইউনেস্কো IPDC’র তত্ত্বাবধানে ২০১৬ সন হতে দিবসটি উদ্্যাপিত হচ্ছে। এবার দিবস পালনের প্রাক্কালে বিশ্ববাসীর প্রতি UNESCO মহাপরিচালকের বাণী, “Universal access to quality and reliable information is a fundamental human right that plays a pivotal role in empowering citizens, facilitating fair debate and giving equal opportunities to all. It is a driving force for transperent, accountable and effective governments and paves the way for freedom of expression, cultural and linguistic diversity and participation in public life. For this reason, universal access to information is a pillar of the 2030 agenda for sustainable development.”
বাংলাদেশ তথ্য কমিশন এ বছর ৪র্থ বারের মত আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালনের জন্য দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইউনেস্কো IPDC’র ২০১৯ কর্মসূচির সূত্র ধরে বাংলাদেশ এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারন করেছে-
‘‘তথ্য সবার অধিকার : থাকবেনা কেউ পেছনে আর”
(Access to Information: Leaving no one behind).
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পুরোপুরিভাবে জাতিসংঘের এজেন্ডা ২০৩০ এর সাথে সম্পর্কিত। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অনুযায়ী এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহ সংকল্পবদ্ধ। সকল অভীষ্টের প্রতিটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেই তথ্য অধিকার আইন বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। তন্মধ্যে ১৬.১০ লক্ষ্যমাত্রাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যক্ষভাবে প্রাসঙ্গিক। ‘জাতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী জনসাধারনের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা ও মৌলিক স্বাধীনতার সুরক্ষাদান।’ এ লক্ষ্যমাত্রার কর্মসম্পাদন পরিমাপকল্পে প্রস্তাবিত বৈশ্বিকসূচক (১৬.১০.২) হলো ‘জনসাধারনের তথ্যে অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবিধানিক এবং/অথবা নিশ্চয়তামূলক নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ণকারী দেশের সংখ্যা।
সারা বিশে^র মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে এসডিজি এমন একটি কর্ম-পরিকল্পনা যা বিশ^ শান্তি জোরদার করবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে জনগণের সকল ধরনের ক্ষুধা, দারিদ্র ও বৈষম্যের অবসান ঘটাবে, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার গুরু দায়িত্ব পালন করাসহ জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি মোকাবিলার কাজ এগিয়ে নেয়া যাবে। আর এসব কর্মকান্ডের মূলমন্ত্র হবে ‘‘কাউকে পেছনে রেখে নয় (No one will be left behind) ” নীতি অনুসরণ। এ মূলমন্ত্রের বাস্তবায়ন সম্ভব তথ্যে সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে। এখানেই এবারের দিবস পালনে আমাদের মূল প্রতিপাদ্যের মাহাত্ম।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন । বৃদ্ধ, অসহায়, হতদরিদ্র,পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির ক্ষুধা ও দারিদ্র নির্মুল করে তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা, সম্পদের টেকসই ব্যবহার, সুশাসন ও গণতন্ত্র সুুসংহতকরণ, টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ ব্যবস্থার প্রচলন, সকলের জন্য ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করা এবং সকল স্তরে কার্যকর জবাবদিহিতাপূর্ণ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণ-এ গুলোই টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট।
তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর মূল লক্ষ্য হলো, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণের ক্ষমতায়ণ নিশ্চিতকরণ। জনগণ রাষ্ট্রের সকল কর্তৃপক্ষের উপর এই আইন প্রয়োগ করে। কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং দুর্নীতি হ্রাসের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠাকল্পে সংবিধানে বর্ণিত অন্যতম মৌলিক অধিকার, চিন্তা, বিবেক ও বাক স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে স্বীকৃত জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে আইনটি প্রণীত হয়েছে।
আইনের ৪ ধারা হলো: ‘Subject to the provisions of this Act, every citizen shall have the right to information from the authority, and the authority shall, on demand from a citizen, be bound to provide him with the information.’
আইনের ৫ ধারায় স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সকল কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইনের ৬ ধারা মতে সকল কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য সহজলভ্য করে প্রকাশ ও প্রচার করবে।
আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্দ্রিয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সকল সহায়তা প্রদান করবেন।
এই অনুচ্ছেদসমূহের মাধ্যমে :
* সকল নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তির আবশ্যিক আইনি ভিত্তি রচিত হয়েছে। সকল নাগরিকের সকল তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, প্রচার, প্রকাশে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপিত হয়েছে, ব্যর্থতায় শাস্তির বিধান রয়েছে, তথ্য প্রদানে সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হয়েছে।
* সকল তথ্য সকলের জন্য বিশেষত: যেগুলো নাগরিকের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার অর্জনে সহায়ক যেগুলির অভাবে এই অধিকারগুলি অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্থ হয়Ñসেগুলো অর্জনের পথ সুগম হয়েছে।
* ধনী-দরিদ্র, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, স্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য তথ্য অধিকার আইনটিকে অন্তর্ভূক্তিমূলক ও সার্বজনীন করে তুলেছে-যা এসডিজি’র মূল যে কথা ‘None to be left behind’ তত্ত্বের বাস্তব রূপদানের একটি ব্লুপ্রিন্ট যা এসডিজি বাস্তবায়নের অন্যতম কৌশল হিসাবে কাজ করবে।
* সর্বত্র সব ধরনের দারিদ্র ও ক্ষুধার অবসান, সকল বয়সী ও সকল মানুষের জন্য সুস্বাস্থ্য, সকলের জন্য অন্তর্ভূক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুনগত শিক্ষা, সকল নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন, সকলের জন্য পানি ও স্যানিটেশন, সকলের জন্য জ¦ালানি সহজলভ্যকরণ, সকলের জন্য কর্মসংস্থান, অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ ব্যবস্থা, সকলের জন্য ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করা, সকল স্তরে কার্যকর জবাবদিহতাপূর্ণ অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ বিশেষভাবে কার্যকর হবে। আইনের প্রয়োগ ও চর্চা যত বেশি হবে তথ্যে সবার প্রবেশাধিকার তত বেশি নিশ্চিত হবে, তথ্য সহজলভ্য হবে।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সর্বাগ্রে জনগণের তথ্যে অভিগম্যতা (Access of people to information)। শহর, গ্রাম, বস্তি, হাওর, পাহাড়, উপকূল নির্বিশেষে সর্বত্রই, সকল ঝুঁকিপূর্ণ-শ্রেণির নিরাপত্তা সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ এবং সর্বত্র অসমতা, বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসানকল্পে তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ ও অনুশীলন হবে একটি বিশেষ হাতিয়ার। উভয়ের লক্ষ্য অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন।
কাউকে পেছনে ফেলে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের কোনটির অর্জনই সম্ভব নয়, আর এজন্য প্রয়োজন তথ্যে সকলের অভিগমনের নিশ্চয়তা। উদাহরণস্বরূপ অভীষ্ট ১ ও ২ যথাক্রমেঘড় No Poverty & Zero hunger. জনগণের সর্বত্র সকল ধরনের ও মাত্রার ক্ষুধা ও দারিদ্রের সম্পূর্ণ অবসান এবং মর্যাদা ও সমতা নিশ্চিত করা। এ অর্জনের জন্য কোথায় কি ধরনের ও মাত্রার ক্ষুধা ও দারিদ্র রয়েছে, তাদের মর্যাদা ও সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য কি ধরনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সেগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সনাক্ত করে, কি প্রক্রিয়ায় এগুলোর উন্নয়ন ঘটানো যাবে এবং সেজন্য গৃহীত ব্যবস্থাদি সম্পর্কে সকল তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও সকল উপকারভোগীর নিকট প্রচার, প্রকাশ, ও অংশীদার করা অর্থাৎ এ সকল তথ্যভান্ডার তৈরি ও এতে সাধারণ মানুষের অভিগমনে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনেকটাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে সকল জনগণের জন্য সর্বত্র তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে এ পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব। এ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠানসমূহ শক্তিশালী হবে এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের সকল লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে মনিটর করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলি নাগরিকের সেবাদানের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল হবে, একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, গণতন্ত্র সুসংহত হবে, দিবসের মূল প্রতিপাদ্যের স্বার্থক রূপায়ন হবে, যা টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক হবে।
যেমন – অনুচ্ছেদ ১৯ মতে,
১। সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন।
২। মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
৩। জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
সংবিধানে অনুচ্ছেদ ১৫ মতে (ক)অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা
খ) কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার।
গ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুঁত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্থতার ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার।
সকল মানুষের সুযোগের সমতা, সম্পদের সুষম বন্টন, সকল মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার প্রদান প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দ্বারা নিশ্চিতকরণে তথ্য অধিকার আইন হতে পারে চাবিকাঠি। তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/অধিদপ্তর ও বেসরকারি সংস্থার গৃহীত সেবা, সম্পদ ও নিরাপত্তা বেষ্টনীতে জনগণের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিতকরণে এবং এগুলো এভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন গৃহীত কার্যক্রম ও সুবিধাদি সম্পর্কে উপকারভোগীদের তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে তাদেরকে aware, educate, motivate I sensitize করা। কারণ তারা সকল উন্নয়ন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে অবস্থান করে। বলা Information is power and right to information is the right of all other rights.এজন্য প্রয়োজন তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করা।
সমাজের অতিদরিদ্র, পিছিয়ে পড়া, সুবিধাবঞ্চিত, অসহায়, তৃণমূল, প্রান্তিক জনগণ, পঙ্গু, প্রতিবন্ধি, অসুস্থ, বিধবা, বৃদ্ধ, চরম দারিদ্রপীড়িত, ভাসমান জনগণ, ঝুঁকিপূর্ণ মহিলা, শিশু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীÑযাদের অনেকেই তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়, যাদের জন্য সরকারি-বেসরকারিব্যাপক কার্যক্রম নিরাপত্তা বেষ্টনী রয়েছে প্রকৃত পক্ষে এ সুবিধা গ্রহণের মত জ্ঞান, যোগ্যতা, দক্ষতা বা সুযোগ নিতান্তই কম,তাদের ইন্টারনেটে অভিগম্যতা তারাই মূলত: টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের Stakeholder.। সমাজের কাউকে বাদ দিয়ে নয় বলতে এ জনগোষ্ঠীই এ মহাযজ্ঞের মূল অংশীদার। এসডিজি’র সকল লক্ষ্যমাত্রাই অন্তর্ভূক্তিমূলক, এখানেই এসডিজি বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্যই তথ্য অধিকার আইনের ব্যাপক প্রয়োগ জরুরি। এর যত চর্চা হবে, তথ্যে সবার অধিকার তত নিশ্চিত হবে, ‘থাকবে না কেউ পেছনে আর’ তখন শুধু কথার কথা থাকবেনা, এ তত্ত্ব পাবে বাস্তবতা, হবে অর্থপূর্ণ। প্রতিটি নাগরিক কর্তৃক তার তথ্য অধিকার প্রয়োগ ও ব্যবহার করাটা হবে জরুরি। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে যেমন Whole of the society approach গ্রহণ করা হয়েছে, তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নে একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্যই হলো সকলের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করে সকলের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ, কাউকে পেছনে ফেলে বা কোন জনগোষ্ঠীকে অবহেলায়, অনাদরে যার অর্জন হবে সুদূর পরাহত। তাই শুধু তথ্য অধিকার দিবস পালনের মূল প্রতিপাদ্য নয়,সদা সর্বদা আমাদের সকলের কর্মের/সেবার মূলমন্ত্র হবে ‘‘তথ্য সবার অধিকার : থাকবেনা কেউ পেছনে আর”।
লেখক: প্রধান তথ্য কমিশনার