তদন্তের জন্য দুদকে প্রেরণ

বিন্দু তালুকদার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরে বোরো ফসলরক্ষার নামে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণে কোটি টাকা অপচয় করার অভিযোগে সুনামগঞ্জ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দায়ের করা মামলাটি দুনীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার মঙ্গলবার দুদকে পাঠানোর এই আদেশ দিয়েছেন। মামলাটি দুদক প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী প্রদীপ কুমার নাগ। তিনি জানিয়েছেন, আদালত গত ২ আগস্ট বাদীর পিটিশনটি গ্রহণ করেন এবং বাদীর জবানবন্দী
গ্রহণ করেছেন। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য দুনীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গ, গত ২ আগস্ট আদালতে এই পিটিশন মামলাটি দায়ের করেছেন সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জলালপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে কৃষক মো. আজাদ মিয়া।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, মোল্লাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী আশরাফুল সিদ্দিকি ও সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানকে।
আদালতে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে সদর উপজেলার দেখার হাওরের বোরো ফসলরক্ষার নামে মোল্লাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী আশরাফুল সিদ্দিকি ও সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান হাওরপাড়ের কৃষকদের আলোচনা না করে ৬টি উপ-প্রকল্প গ্রহণ করেন। ৬টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রতিটি প্রকল্প (হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ) মহাসিং নদীর পূর্বতীরে নির্মাণ করার কথা থাকলেও প্রত্যেকটি প্রকল্প নদীর ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে নির্মাণ করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক মৎস্য খামার স্থাপনের উদ্দেশ্যে মহাসিং নদীর তীর থেকে অনেক দূরে বাঁধ নির্মাণ করেন। যার কারণে দেখার হাওরের বোরো ফসল অরক্ষিত থাকবে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মানচিত্র অনুযায়ী দেখার হাওরের ভিতরে প্রবাহিত মহাসিং নদীর পূর্ব পাড় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্বপাগলা ইউনিয়নের অন্তর্গত। মহাসিং নদীর পূর্ব ও পশ্চিমপাড়ে বাঁধ থাকলেও ডুবন্ত বাঁধ মেরামতের কথা বলে নদীর তীরে কোন বাঁধের কাজ বা মেরামত না করেই সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। এতে করে দেখার হাওরের বোরো ফসল অকাল বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
মামলার বাদী মো. আজাদ মিয়া বলেন,‘দেখার হাওরের ফসলরক্ষার নামে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের কোটি টাকার অপচয় করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ করে কোন ফল না পেয়ে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আদালত গত মঙ্গলবার আদেশ দিয়েছেন। আদেশে বলেছেন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য দুনীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হোক।’