তদারকি নেই শহরের মাংসের দোকানে

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ৯ স্থানের মাংস বিক্রেতার দোকানে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো তদারকি নেই বলে অভিযোগ একাধিক মাংস ক্রেতার। এই কারণে মাংস ব্যবসায়ী অনেকে বাসি ও নি¤œমানের মাংস নিরবে বিক্রি করে চলেছেন।
রবিবার সকালে একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন,‘গরুর মাংস কিনে নেওয়ার সময় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামত হাড্ডি ও চর্বি দিয়ে থাকেন। ওজনেও কম দেয়া হয়। দিনের শেষে যে মাংস অবশিষ্ট থাকে, তা পরের দিন বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা।
প্রতিদিন ভোরে গরু জবাই করার সময় পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত ব্যক্তি মাংসের দোকানে উপস্থিত থেকে মাংসের গুণগত মান নির্ণয় করে সিল মারার কথা, কিন্তু এই নিয়ম মানা হয় না বলে জানিয়েছেন একাধিক ক্রেতা।
শহরের কাজীর পয়েন্টের আবু মিয়া, শহীদ মিয়া ও মনির মিয়া, প্রধান মাছ বাজারের পাশে জবর আলী, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরকারী পুকুরপাড়ে সামছু মিয়া এবং ওয়েজখালী পয়েন্টের শামীম মিয়া মাংস বিক্রি করেন। এছাড়া কালীবাড়ি এলাকায় শামীমাবাদ হোটেলের পাশে, নতুনপাড়া মহিলা কলেজের পাশে, হোসেন বখত চত্ত্বর এলাকায় দুর্গাবাড়ির সামনে খাসির মাংস বিক্রি করা হচ্ছে।
বর্তমানে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫ শত টাকা, মহিষের মাংস প্রতি কেজি সাড়ে ৪ শত টাকা, ভেড়া ৬ শত টাকা এবং খাসীর মাংস প্রতি কেজি ৮ শত টাকা হিসাবে বিক্রি করার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ দর নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
রবিবার মাংস ক্রেতা আবু হানিফ বলেন,‘দোকানে মাংস কিনতে গেলে যেমন ভিক্ষুকের মতো দাঁড়িয়ে থেকে একটু ভাল মাংস দেওয়ার জন্য অনুনয় বিনয় করতে হয়। তাদের ভাষায় আমরা যেভাবে মাংস দেবো ঠিক এইভাবে নিলে নেবেন। নইলে বিক্রি করব না।’
ক্রেতা আব্দুল হান্নান বলেন,‘মাংসের রঙ ফ্যাগরা থাকায় আমি তাজা মাংস চাইলে, মাংস বিক্রিই করবে না বলে জানায় কাজির পয়েন্টের এক মাংস বিক্রেতা।’
শহরের কাজীর পয়েন্টের মাংস ব্যবসায়ী আবু মিয়া বলেন,‘আমরা প্রতিদিন গরু জবাই করার পর ২ শত টাকা করে পৌরসভার নিযুক্ত লোককে দেই। দিনে দুই টি গরু জবাই করি। মাংস অবশিষ্ট থাকলে হোটেলে দিয়ে দেই। প্রতি কেজিতে চর্বি ও হাড্ডি দেই প্রায় ৩ শত গ্রাম। এগুলো গরুরই অংশ। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ১টি ও ৮টায় ১টি গরু জবাই করেছি। পরে পৌরসভার লোক এসে সিল মেরে গেছেন। রশিদ দিয়ে টাকাও নিয়ে গেছেন।’
পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. সেলিম উদ্দিন বলেন,‘শহরের মাংসের দোকান দেখাশোনা করার জন্য প্রায় ৮ মাস আগে একজন কসাইখানা পরিদর্শক ছিলেন। তিনি অবসরে যাওয়ায় এখন নেই। আমি একা যতটুকু পারি মাঝে মধ্যে দেখাশোনা করি। আজকে কোনো মাংসের দোকানে যাইনি।’
৮ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর আহমদ নুর বলেন,‘আমাদের পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা চাই, মানুষ যেন ভাল মানের মাংস খেতে পারে। এই জন্য সকলের সুদৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।’