তন্বী-রূপার পড়াশুনা হবে কি?

স্টাফ রিপোর্টার
তন্বী ও রূপা এবার এসএসসি পাস করেছে। তন্বী জিপিএ-৫ ও রূপা ৪.৮৭ পেয়েছে। একেবারেই হতদরিদ্র পরিবারের এই দুই বোন এইচএসসি পড়তে পারবে কি-না? এই দুশ্চিন্তায় ভুগছে।
হতভাগ্য এই দুই শিক্ষার্থীর বাবা শহরের পূর্ব নতুনপাড়ার বাসিন্দা যতীন্দ্র দাস অসুস্থ হয়ে ৫-৬ বছর হয় চলাফেরা করতে পারছেন না। এই কয়েক বছরে অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। সংসার চালানোর জন্য বিয়ের ঘটখালি করার কাজ বেছে নিলেও যা আয় করেন তা দিয়ে ঘরভাড়ার দুই হাজার টাকাও কোন কোন মাসে দিতে পারেন না তিনি।
গত ৫ বছর ধরেই তন্বী ও রূপার মামা জ্যোতিষ দাস ও জিতেন্দ্র দাসের সহায়তায় অভাব-অনটনে সংসার চলছে বলে জানালেন যতীন্দ্র কুমার দাস।
মেয়ে দুটির ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত যতীন্দ্র কুমার দাস বললেন,‘তিন মেয়ে আমার, ছোট মেয়েটি (উর্মিলা দাস) ৮ম শ্রেণিতে ওঠেই টিউশনি শুরু করেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র পড়ায়। বড় দুটি মেয়েকে আমি কোন সহায়তা করতে পারিনি। পেট ভরে খাওয়ানোই সম্ভব হয়নি। অসুস্থ হলে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। প্রাইভেট পড়ার খরচও আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন মেয়েগুলো পড়বে কীভাবে সেটাও জানি না। এই পর্যন্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ও তাদের মামাদের সহায়তায়ই এগিয়েছে। বড় মেয়েটি (তন্বী) ডাক্তারী পড়তে চায়। আমি বিয়ের ঘটকালি করে মাঝে-মধ্যে যা রোজগার করি তা দিয়ে ২ হাজার টাকার বাসা ভাড়াই দিতে পারি না।’
সুনামগঞ্জ সরকারী সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তন্বী (তন্বী রানী দাস) জানালো, পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে সে। কিন্তু ৮ম শ্রেণিতে অসুস্থ্য অবস্থায় পরীক্ষা দিয়ে ৪.৯৫ পেয়েছিল। এবার এসএসসি পরীক্ষায় ভাল ফল করলেও ভবিষ্যতে পড়াশুনা করতে পারবে কি-না জানে না সে। তন্বী বললো,‘নবম শ্রেণি থেকে এসএসসি পরীক্ষার পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সুভাস স্যার (সুভাস চন্দ্র দাস), রঞ্জন স্যার (রঞ্জন কুমার রায়) ও সাঈদুল স্যার (সাঈদুল হক) কোন ফি’ ছাড়াই প্রাইভেট পড়িয়েছেন আমাদের দুই বোনকেই।’
রূপা (রূপা রানী দাস) বললো,‘পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলাম, এরপর আর টাকার অভাবে বই-ই ভালভাবে কিনতে পারিনি। এসএসসি পরীক্ষার সময় ভীষণ অসুস্থ ছিলাম। লেখার সময় শরীর কেঁপেছে। এজন্য ভাল ফলাফল করা হলো না।’
সতীশ চন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুভাস চন্দ্র দাস বলেন,‘তন্বী-রূপা অসম্ভব মেধাবী ও মনযোগী। তারা আরও ভাল ফল করতো। কিন্তু দরিদ্রতার দুশ্চিন্তায় আশানরূপ ফল করা সম্ভব হয়নি তাদের।’