তলিয়েছে ৫০৫ হেক্টর আউশ জমি ও ৬০ হেক্টর সবজি খেত

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুরমাসহ বিভিন্ন নদীর পানি বুধবার রাত পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার দিনে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বিকালে সুরমা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
পানিতে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার ৫০৫ হেক্টর আউশ জমি, ৬০ হেক্টর সবজি খেত ও ৩১ হেক্টর আমন বীজতলা তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সুরমা নদীর পানি কমলেও নদীর পানি হাওরে ঢুকায় হাওরের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাছে সুরমা নদীর পানি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত কমেছে। ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এসময়ে ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় আউশ জমি তলিয়েছে ৫০ হেক্টর, দোয়ারাবাজারে ৪৩০ হেক্টর, ছাতকে ১৬ হেক্টর ও জামালগঞ্জে ৯ হেক্টর । সবজি খেত তলিয়েছে সুনামগঞ্জ সদরে ২০ হেক্টর, বিশ্বম্ভরপুরে ২০ হেক্টর ও দোয়ারাবাজারে ২০ হেক্টর মোট ৬০ হেক্টর। এদিকে আমন বীজতলা সদর উপজেলায় ১ হেক্টর, দোয়াবাজারে ১০ হেক্টর ও বিশ্বম্ভরপুরে ২০ হেক্টর তলিয়ে গেছে। তবে পানি না কমায় এখনই ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব নিরুপণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন জেলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপ পরিচালক বশির আহমদ সরকার।
জানা যায়, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার নিম্মাঞ্চলের কিছু মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। ঢলের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই সড়কের শক্তিয়ারখলা এলাকায় প্রায় ১ কিলেমিটার সড়ক প্লাবিত হওয়ায় মানুষজন নৌকায় পাড়াপাড় হচ্ছেন ।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। নিচু এলাকার মানুষজন পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন। কিছু আমন বীজতলা ও সবজি খেত তলিয়ে গেছে। তবে পানি বাড়লেও উপজেলার কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সুনামগঞ্জ সদর উপজলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া জানান, সুরমা নদীর পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সুরমা নদীর তীরবর্তী নবীনগর, তেঘরিয়া, উত্তর আরপিননগর, বড়পাড়া, জলিলপুর এলাকার কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক জানান, বৃষ্টিপাত ও ঢলের পানি হ্রাস না পেলে উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে অনেক ক্ষতি হতে পারে। বিভিন্ন এলাকার অনেক আউশ জমি, আমন বীজতলা ও সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকার কাঁচা ও পাকা সড়ক পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘ বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় নদীর পানি তেমন বাড়েনি। আগে হাওরে পর্যাপ্ত পানি ছিল না, এখন নদীর পানি বৃদ্ধি হয়ে হাওরে ঢুকছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। ’
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপ পরিচালক বশির আহমদ সরকার বলেন,‘অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পানিতে ও বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জমিতে উঠায় ৫টি উপজেলায় কিছু আউশ জমি, আমন বীজতলা ও সবজি খেত তলিয়েছে। তলিয়ে যাওয়ায় সবজি খেত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আউশ জমি ও আমন বীজতলার পানি দু’এক দিনের মধ্যে নেমে গেলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না। তবে পানি যদি ৭-৮ দিন থাকে তাহলে আউশ জমি ও আমন বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন,‘বৃহস্পতিবার দিনে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সুরমা নদীর পানি কিছু হ্রাস পেয়েছে। বিকেল চারটায় সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের কাছে বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমেছে।’