তাঁরা আমার তারা

উজ্জ্বল মেহেদী
অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর। পরপর তিনটি মাস। এই তিনটি মাস আমার আকাশে তিনটি তারা খসে পড়ার মাস হয়ে গেল। একটি তারা ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বলতম। তিনি কমরেড বরুণ রায়। জীবনের পরম সৌভাগ্য যে, বরুণ রায় নামের বটবৃক্ষ-সান্নিধ্য পেয়েছিলাম বলে ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনে রে ভালোবাসিলাম…’ এক লহমায় সহজিয়া হয়ে গিয়েছিল।
কমরেড বরুণ রায়ের জন্মমাস নভেম্বর। চিরবিদায় নেওয়ার মাসটি পরেরটি, ডিসেম্বর। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর। তাঁর পিতামহ রায় বাহাদুর কৈলাশচন্দ্র রায় ছিলেন ভারতের বিহার রাজ্যের শিক্ষা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি। সেখানেই জন্ম তাঁর। শৈশব কেটেছে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলি গ্রামে ও ভারতের শিলংয়ে। বরুণ রায়ের বাবা করুণাসিন্ধু রায় ছিলেন রাজনীতিবিদ। ইচ্ছে করলে বরুণ রায় আরাম-আয়েশে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু আরাম-আয়েশ আর জমিদারি তাঁকে টানেনি। তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে জীবনভর কাটিয়ে দিয়েছেন, মানুষের মুক্তির জন্যই লড়াই করে গেছেন। সুনামগঞ্জের হাওরের জল-মাটি আর মানুষের কাছে তিনি মানুষের চেয়েও ছিলেন বেশি কিছু। বরুণ রায়ের সান্নিধ্য পাওয়া সর্বশেষ প্রজন্মের আ স ম মাসুম তাঁকে গণদেবতা অভিধা দিয়েছে। মাসুম বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর যুক্তরাজ্য সংস্করণ ব্যুরোপ্রধান।
এই ‘গণদেবতা’ বা গণমানুষের নেতা বরুণ রায়ের ‘ভাসান পানির’ আন্দোলন আমার হাওরসাংবাদিকতার দিকে আকৃষ্ট হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। টাঙ্গুয়ার হাওরের দিকে মন দেওয়া আমার বরুণ রায়ের মুখে মুখে শুনে। আমার সাংবাদিকতা স্বার্থক এই কারণে যে, টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন করতে করতে যখন ওয়াটারলর্ড আবিস্কার করলাম, তৃপ্ত বরুণ রায় একদিন অল্প করে বলেছিলেন, ‘বেশ!’। এই একটি বাক্য আমাকে পরবর্তীতে অনেক অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
প্রথম তারাটির বিদায় স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আমার আকাশের দ্বিতীয় তারাটি খসে পড়ে বড় অকালে। দ্বিতীয় তারাটি কবি প্রতিভার, সেই সঙ্গে অসীম সাহসী এক জনপ্রতিনিধির। তিনি কবি মমিনুল মউজদীন। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্ত্রী, এক ছেলেসহ তিনি মারা যান। মমিনুল মউজদীনের হাওর বাঁচাও আন্দোলনের প্রেরণা ছিলেন বরুণ রায়। আর আমার জন্য মমিনুল মউজদীনের ‘বাংলাদেশের হাওর অ্যাসাইনমেন্ট’ আকৃষ্ট করেছিল। মউজদীনের সামাজিক আন্দোলন সাংবাদিকতারও বড় উপাত্ত ছিল। সেই সব আন্দোলনে বরুণ রায়ের উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। তাই তো আমার আকাশ আনন্দে থাকতো, সব তারারা একসঙ্গে বলে। মউজদীন চেয়েছিলেন কবিতার শহর। চেয়েছিলেন, সুনামগঞ্জ শহরে রাজনৈতিক ঐকতান। গণঐক্য গড়ার সূত্রধর। তাঁর একটি উদ্যোগ নিয়ে আমার তৈরি ফিচার-প্রতিবেদন, শক্তিশালী কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকেও হার মানিয়েছিল। ১৯৯৭ সালে ‘আসমান ভাইঙ্গা জোছনা পড়ে’র বদৌলতে সুনামগঞ্জ শহরকে জোছনার শহর পরিচিতি এনে দেয়। অসাধারণ কাব্যিক উদ্যোগ সেই সময়ই কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদকেও বিমোহিত করেছিল।
হুমায়ুন-প্রসঙ্গ আসায় আমার আকাশ থেকে খসে পড়া তৃতীয় তারা, মানে মইনুদ্দিন আহমদ জালাল প্রসঙ্গ এসে গেল। তৃতীয় তারাটি খসে পড়াটা বড় বিষাদের। বোহিমিয়ান জীবনের অবসান ঘটিয়ে যখন জীবনের মধ্যম সময়ে থিতু হচ্ছিলেন, তখনই ঘটল তারা হারাবার ঘটনা। ১৮ অক্টোবর শিলংয়ে গিয়ে আর ফেরা হয়নি তারাটির। তিনি যুব রাজনীতিবিদ হিসেবে খ্যাতিমান সংগঠক মইনুদ্দিন আহমদ জালাল। অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর তারা খসে পড়ে পড়ে হয়তো ১২টি মাস পূর্ণ হবে একদিন। আকাশ থাকবে, তারা থাকবে, আমরাও একদিন তারা হবো! এ রকম আবেগি ভাবনার মধ্যে জালাল ভাইকে মাটির ঘরে রেখে আসলাম চিরতরে।
পারিবারিক গন্ডির বাইরে তারা খসে পড়ার কষ্ট যে কী প্রকট, সর্বশেষ ১৮ অক্টোবর মস্তিস্কে আর মননে টের পেলাম। ভারতের শিলং গেছেন চিকিৎসার জন্য। এ রকম প্রায়ই তিনি যান। সাধারণ চেকআপ, বিচলিত হওয়ার কিছু ছিলও না। যাত্রাপথে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বেহাল দশার কথা জানালেন। প্রথম আলোর আলোকচিত্রী আনিস মাহমুদকে ‘মোজো’ করার কথাও বললেন। মোজো প্রথম আলোর নতুন সাংবাদিকতা। মুঠোফোনে ভিডিও করা। আনিস এ কাজে পারদর্শী। বেশ কয়েকটা কাজের জন্য পুরস্কারও পেয়েছে। সেটি তিনি জানতেন বলে এভাবে নামায়ন করে অনুরোধ ছিল তাঁর। ১৯ বা ২০ অক্টোবর ফিরবেন বলেছিলেন। ফিরলেন, তবে লাশ হয়ে। যেদিন তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল, সেই দিনই চিরনিদ্রায় শায়িত করে রেখে এলাম ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সেই চন্ডীপুল এলাকার ধরাধরপুর।
চন্ডীপুল, ধরাধরপুর বলতেই চোখে ভেসে ওঠে ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর একটি ভয়ঙ্কর ঘটনার ছবি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস আগুনে পুড়ছিল। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুন। গাড়িতে এক যাত্রীর কাছে ঘি ছিল। সেই কারণে মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা। ৪০ আসনের গাড়ি। যাত্রী ছিলেন তারও বেশি। একজন যাত্রী বের হতে পারেননি, জানালার কাছে জুতাসমেত পা রাখা অবস্থায় পুড়ে ছাই হন তিনি। আবেগের আগুন জ্বলে ওঠে এখানেই। সেই মুহূর্তের ছবি প্রথম আলোয় পরদিন প্রধান ছবি হিসেবে ছাপা হয়। এ জন্য আনিস মাহমুদ পুরস্কৃত হন। জালাল ভাইয়ের পেরেশানি ছিল অন্যখানে। গাড়িতে যাত্রীদের সঙ্গে একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমরা সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্বের বাইরে আগুনে পোড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেছিলাম, সেই উদ্ধার পর্বে একজন স্বস্তি পেয়েছিলেন। তিনি জালাল ভাইয়ের চাচা, ধরাধরপুরের মুক্তিযোদ্ধা। সপ্তাহ দিন পর যখন হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, জালাল ভাইয়ের চাচা পরিচয়টা।
এ পরিচয় মুখ্য নয়, গাড়িতে আগুন দেওয়ার দিনটি ছিল অন্য এক কারণে মুখ্যত আলোচিত। ওই দিন টিপাইমুখের বাঁধের বিরুদ্ধে বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর নেতৃত্বে আন্দোলন চলছিল, জালাল ভাইয়ের পেরেশানিটা ছিল ওই খানেই। কেননা, টিপাইমুখের আন্দোলনের সুতিকাগার পর্বের একজন ছিলেন তিনি। যদি তাঁর গ্রামবাসী কিংবা আত্মীয়-স্বজনেরা ভাবেন যে, গাড়ি টিপাইমুখবিরোধী যে আন্দোলন চলছে, সেখান থেকেই নাশকতা ঘটেছে! এই ছিল দুশ্চিন্তা। আমি জালাল ভাইকে আস্বস্ত করার পর স্বস্তি পান। এখানে এই অস্বস্তি মামুলি, কিন্তু জালাল ভাইয়ের তটস্থতা, দুর্ভাবনা, অল্পতেই নিহিত ছিল। যে জন্য অনেক বড় বড় অঘটন ঘটার আগেই ছোট পরিসরে শেষ করতে ত্রাতার ভূমিকায় থাকতেন তিনি।
আমার আকাশের তৃতীয় তারাটি আকাশপানে রেখে এলাম বলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কলাগোয়া ধরাধরপুর থেকে শুরু করেছি এই লেখা। ছোট ছোট স্মৃতি, যে গুলো এসে কড়া নাড়ছে, সেগুলো লিখছি। আর ইতিহাস হওয়ার মতো বড় ঘটনা আর স্মৃতিকথা যতন করে রেখে দিচ্ছি আরও একটি কাজের জন্য। যে কাজটি জালাল ভাইয়ের জীবদ্দশায় করতে না পারা, ৬২ দেশ ঘুরে ঘুরে যুব উৎসবের বিশ্ব আসরে শামিল হওয়ার পর তাঁকে বিশ্ব নেতার কাতারে নিয়ে য্ওায়া। শুরু থেকে শেষ অবধি সেবার মনোভাব ছিল। সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্টেশনে তাঁর বাবার আবাসিক হোটেল ‘জালালাবাদ’-এর ৩১ নম্বর কক্ষটিও ছিল প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য নিবেদিত। অনেক বৈঠক নিরাপদে সেরেছেন বিপ্লবীরা সেখানে বসে বসে। পিএসসির চেয়ারম্যান পদে থাকা কবি মোহাম্মদ সাদিক সেই ৩১ নম্বর কক্ষটি কবিতার সমাদরে রেখে দিয়েছেন। জালাল ভাই কবি মোহাম্মদ সাদিককে ‘চান্দের বুন্দা’ (মোহাম্মদ সাদিকের একটি কবিতার শব্দ) বলে সম্মোহিত করতেন। নিজেকে আড়াল করে রাখতেন। এই অক্টোবর মাস, গেল বছর নাজিয়া ভাবীসহ (শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, আগে ডাকতাম ম্যাডাম) রাশিয়া গেলেন। ছাত্র-যুব উৎসবে। ছবিসহ একটি ছোট্ট একটি প্রতিবেদন প্রথম আলোর ভেতরের পাতায় স্থান পায়। জালাল ভাই যাত্রবিরতির পথে সেই প্রতিবেদন দেখে লাজুকলতার মতো প্রলাপ বকছিলেন। সেই যাত্রায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আরও অনেকই ছিলেন, কেন শুধু তাঁকে ফোকাস করলাম, এই ইতস্থতা ছিল কথায়। জালাল ভাইয়ের সংগ্রহে নাকি আমার কোনো ছবি নেই। গেল ঈদে বাড়ি গেলে সেখানে কাকতালীয়ভাবে দেখা। সবাইকে নিয়ে গ্রুপ ছবি তুলে রাখলেন মুঠোফোনে। পরে সেই ছবিটি ফেসবুকে দেখলাম, পরম যতেœ সবার পরিচয়সমেত প্রচার করলেন।
জীবদ্দশায় জালাল ভাইয়ের সঙ্গে যাওয়া হয়নি তাঁর পৈত্রিকভুম ধরাধরপুরে। এবার তাঁকে সমাহিত করতে প্রথম যাওয়া। ধরাধরপুর থেকে যদি সিলেট শহর নিয়ে বলি, তাহলে কোটি-সহ¯্র বাক্য প্রয়োগ করেও এই লেখা শেষ করতে পারবো না। কেননা, সিলেট শহরের সব গলিপথ, এমন কোনো মাটি নেই, যেখানে জালাল ভাইয়ের পরশ পায়নি। এরমধ্যে কিছু জায়গা দিয়ে গেলে তো জালাল ভ্ইায়ের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। শহীদ মিনার থেকে চৌহাট্টা আর চৌহাট্টা থেকে আম্বরখানা, সেখান থেকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়। মনে পড়ে, নামকরণ নিয়ে জালাল ভাইয়ের অসীম সাহসী ভূমিকার কথা। তার আগে ১৯৯৫ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম কবি শামসুর রাহমানের নিরাপদ সিলেট আগমনের জন্য জালাল ভাইয়ের তারুণ্য উদ্দীপ্ত নেতৃত্ব। দেখিনি সেই দীপ্রতা, গল্প শুনেছি শুধু।
এক তারা আবার আরেক তারার উপর নির্ভরশীল ছিলেন ভীষণ। ২০০০ সালে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণবিরোধী আন্দোলনের সময় ভ্যানগার্ড হয়ে থাকা জালাল ভাই কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের নিরাপদ সিলেটযাত্রার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। ফটকে অনশন ভাঙাবেন কে? সেই সময়ে বড় ভরসা পান বরুণ রায়ে। জালাল ভাইয়ের ডাক পেয়ে বরুণ রায় লোকাল বাসে করে এসেছিলেন সিলেটে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ফটকে অনশনরত হুমায়ুন পরিবার। তাঁদের অনশন ভাঙিয়ে তবেই সুনামগঞ্জ ফিরেছিলেন তিনি।
তারা ভরা আমার আকাশ। একেক করে খসে পড়ছে, এটাই স্বাভাবিক। কালে-অকালে খসে পড়া তিন তারার মধ্যম তারা মমিনুল মউজদীন। মউজদীন ভাইয়ের অকালপ্রয়াণ, একমাত্র ছেলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত, এ অবস্থায় পৌর নির্বাচন হলে মউজদীনভক্তরা কী করবে? এমন প্রশ্ন নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল জালাল ভাইয়ের নাম। তিনি তাঁর জন্ম শহরে আসছেন, পৌরপিতার পদে নির্বাচন করতে। কিন্তু সেই সময় জালাল ভাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আর্তি শুনে মনস্থির করলেন নির্বাচন না করার। একবার যেহেতু না বলেছেন, শত চেষ্টায়ও তাঁকে আর হ্যাঁ বলানো যায়নি। এই হচ্ছেন জালাল ভাই। দৃঢ়চেতা, নির্মোহ এক অন্য মানুষ। শেষ দিকে ছোট ছোট কর্মসূচিতে বেশি ব্যস্ত থাকতেন। সফট কর্মসূচি ছিল এসব। কিন্তু মনে অনুরণন সৃষ্টি করতো। টিপাইমুখের বাঁধবিরোধী আন্দোলনে ভারতের সা¤্রাজ্যবাদ মনোভাববিরোধী জনমত সৃষ্টি, নদীতে পুষ্পবৃষ্টি, বেগম রোকেয়ার জন্য সন্ধ্যারাতে আলোকপ্রজ্বালন প্রভৃতি। আর সিলেটের জন্য আরও এক কর্মসূচি তিনি পালন করতেন। প্রবীণদের জন্মদিন পালন। কবি শুভেন্দু ইমাম দিয়ে এর প্রচলন করেছিলেন জালাল ভাই। আর ব্যক্তিগত সহায়তায় তো এক পায়ে খাড়া থাকতেন। চলতো অন্তঃপ্রাণ সহায়তা।
এমন তারাটি অকালে খসে পড়ার শোক কী করে সামাল দেই! শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা গড়িয়ে অফিসে ফিরি। ফেসবুকে চোখ রাখতে গিয়ে কোনো না কোনোভাবে সর্বশেষ তারাটি চোখে ভাসে। চোখ ঝাপসা হয়ে যায়।