তাজ মিয়া হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইতে স্থানান্তর

স্টাফ রিপোর্র্টার
সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কাবিলাখাই গ্রামের তাজ মিয়া হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ উঠেছে। তাজ মিয়া হত্যা মামলা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর এই অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও নিহত তাজ মিয়ার ছোট ভাই আবু খালেদ।
মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজী দিয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে এসব অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী আবু খালেদ। আদালত বাদীর নারাজীর আবেদন গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেন (পিবিআই) আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তাজ মিয়া হত্যা মামলার বাদীর আইনজীবী মুশাহিদ আলী।
তবে অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এসআই দেবাশীষ সূত্রধর বলেছেন,‘ মাঠের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। ’
মামলার বাদী নিহত তাজ মিয়ার ছোট ভাই আবু খালেদ জানান, তাদের গ্রামের রুহুল আমিন ও আব্দুল হাই, পার্শ্ববর্তী আমরিয়া গ্রামের আনছর মিয়া, নুরুজ্জামান ও কামরুজ্জামান তাদের ডোবায় প্রায়ই জোর করে মাছ ধরতে চাইলে তার বড় ভাই তাজ মিয়া বাধা নিষেধ করতেন। এনিয়ে তাদের সাথে চরম বিরোধ চলছিল। ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর বিকেলে অভিযুক্তরা জোর করে মাছ ধরছে; এমন খবর পেয়ে মাছ ধরায় বাধা নিষেধ করেন তাজ মিয়া। বিরোধের জের ধরে তাজ মিয়াকে লোহার রড, লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে রুহুল আমিন, আনছর মিয়া, নুরুজ্জামান, কামরুজ্জামান ও আব্দুল হাই। তার চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা এগিয়ে গেলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাজ মিয়াকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন লাশের ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
এই ঘটনায় নিহত তাজ মিয়ার পরিবার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এরপর ২১ অক্টোবর নিহতের ছোট ভাই আবু খালেদ আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ২৭ অক্টোবর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা তাজ মিয়ার মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে (মামলা নং-১৮, তারিখ ২৭/১০/২০২০ ইং) ।
মামলার বাদী আবু খালেদ অভিযোগ করে বলেন,‘সুরতহাল ও ময়না তদন্তের রিপোর্টে আমার ভাইয়ের মাথার ডান পাশে, ডান কানের উপরে, ঘাড়ের উপরে,ডান হাতের মাসুলেম বুকের ডান পাজরে , পিটে ও কোমড়সহ শরীরের নানা স্থানে জখমের কথা উল্লেখ আছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরপেক্ষ স্বাক্ষীরাও বলেছেন তাজ মিয়াকে মারপিট করা হয়েছে। অথচ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সঠিকভাবে তদন্ত না করে এবং স্বাক্ষীদের জবানবন্দী সঠিকভাবে না নিয়ে আসামীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তাই আমি এই প্রতিবেদনের উপর নারাজী দিয়েছি এবং পুনরায় তদন্তের আবেদন করেছি। আদালত আমার আবেদন গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের জন্য বলেছেন। আমার আশা পিবিআই সঠিকভাবে তদন্ত করলে খুনের ঘটনা বের হবে।’
তবে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রদানকারী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এসআই দেবাশীষ সূত্রধর বলেন,‘ বিবাদীদের পক্ষ অবলম্বন করার অভিযোগ মিথ্যা। তাজ মিয়ার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট সংগ্রহ করেছেন সিলেটের কোতোয়ালী থানার পুলিশ। মামলায় বাদীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া পায়নি। মাঠের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তবে বাদী পক্ষ চাইলে অন্য যে কোন সংস্থা দিতে পুনঃতদন্তের দাবি করতেই পারেন। ’
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর সিলেট অফিসের এস,আই শহীদুল ইসলাম বলেন,‘ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার তাজ মিয়া হত্যা মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য আদালতের আদেশ পেয়েছি। তবে মামলার ডকেট এখনও পাইনি। ডকেটের জন্য আবেদন করেছি। ডকেট পাওয়ার পর তদন্ত কাজ শুরু করব।’
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মুশাহিদ আলী বলেন,‘ তাজ মিয়া হত্যা মামলায় থানার তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতিত্ব আচরণ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। বাদীপক্ষ চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজী দিয়েছেন ও মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন। আদালত বাদীর আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।’
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর বিকেলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামের তাজ মিয়া নিজ গ্রামের রুহুল আমিন ও আব্দুল হাই, পার্শ্ববর্তী আমরিয়া গ্রামের আনছর মিয়া, নুরুজ্জামান ও কামরুজ্জামানের নির্যাতনের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাজ মিয়াকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।