তাহিপুরের গোলাঘাট জলমহাল শুকিয়ে মাছ আহরণ

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিপুরের দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের গুলাঘাট জলমহাল পাম্প দিয়ে শুকিয়ে মাছ ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইজারাদার সমিতির সভাপতি। তিনি অভিযোগ করেছেন ইজারাদার সমিতিরই সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কর্তৃক ইজারাকৃত এই বিলে গত ৮ দিন ধরে পানি সেচে মাছ ধরেছেন বিলের অভিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করার পরও ৩ দিন মাছ ধরেছেন সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম।
জলমহালের তীরবর্তী স্থানীয় লোকজন জানান, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একজন কর্মচারী ও থানা থেকে পুলিশ গেলেও রহস্যজনক কারণে বিল সেচা বন্ধে কেউ কোন উদ্যোগ নেয়নি ।
তবে শুক্রবার বিকালে টাঙ্গুয়ার হাওরের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিমুল এহসান গুলাঘাট বিলের পানি শুকানোর জন্য দেয়া বাঁধ কেটে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ১০০ একর আয়তনের গুলাঘাট জলমহালটি তিন বছরের জন্য ইজারা নেয় কাউকান্দি মৎস্য সমিতি সমবায় সমিতি। প্রতি বছর সাড়ে ৬ লাখ টাকায় ইজারা প্রদান করা হয় এই বিলটি। চলতি মওসুমসহ দুই বছর মাছ ধরা হয়েছে বিলটি থেকে। গত বছর পাম্প দিয়ে না শুকানো হলেও এই বছর সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম ১০টি পাম্প বসিয়ে বিল শুকিয়ে ছোট-বড় সব মাছ ধরেন। সমিতির সভাপতি শাহীন মিয়া বিষয়টি শুনে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে পাম্প দিয়ে বিল সেচা বন্ধের অনুরোধ করলে তা কর্নপাত করেনি সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম। পরে বাধ্য হয়ে তিনি গত বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,‘ অভিযোগ পাওয়ার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তহসিলদার, উপজেলা মৎস্য অফিসার ও থানার ওসিকে অনুরোধ করা হয়েছিল। আমি ছুটিতে আছি, আগামীকাল (শনিবার) আসব। শুক্রবার দুপুরেই টাঙ্গুয়ার হাওরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নিয়েছে, বিলের বাঁধ কেটে দেয়া হয়েছে।’
টাঙ্গুয়ার হাওরের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিমুল এহসান বলেন,‘ কাউকান্দি এলাকার গুলাঘাট জলমহালে পাম্প বসিয়ে পানি সেচা হচ্ছিল, কিছু পানি সেচাও হয়েছে। খবর পেয়ে শুক্রবার বিকালে অভিযান চালিয়ে বিলের পানি সেচার বাঁধ কেটে দেয়া হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, বিল সেচার সাথে জড়িতরা মেশিন নিয়ে নৌকা যোগে পালিয়ে গেছে। বিলের ইজারাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’