তাহিরপুরে আমনের ভাল ফলন

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
চলতি মৌসুমে তাহিরপুরে আমনের ভাল ফলন হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আমন চাষিরা। তাছাড়া সরকারের দেয়া ভর্তুকিতে দেয়া কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্রপাতি দিয়ে ধান কাটায় কৃষকরা কোন শ্রমিক সংকটে পড়েনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। দিগন্তজোড়া মাঠের সোনালি মাঠে ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ কেউ কাটা ধান আটি বেঁধে মাথায় করে, কেউবা পরিবহনে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। গত ১ সপ্তাহে উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ব্যতীত বাকী ৬টি ইউনিয়নে ৪০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে তাহিরপুর উপজেলায় ৬ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এ মৌসুমে আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। আমন ধানের মোট উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ১৮০ মেট্রিক টন। ২০২১—২০২২ অর্থবছরের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের সহায়তায় (ভর্তুকি) তাহিরপুর উপজেলায় ৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৩টি হ্যান্ড রিপার ও ২টি মারাইকল দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমন মৌসুমে ১৪শ’ কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়া হয়।
বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরান লাউর গ্রামের কৃষক রাহাত উদ্দিন জানান, নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো সার প্রয়োগের ফলে ফলন ভালো হয়েছে। তারা হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটতে পারছেন এবং স্বল্প সময়ে ও কম খরচে ধান ঘরে তুলতে পারছেন।
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রাজাই গ্রামের কৃষক আব্দুল মুতালিব বলেন, গত মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে আমনের ফলন ভালো হয়নি। এ বছর অনুকূল আবহাওয়া, পোকার আক্রমণ ও রোগ—বালাই কম হওয়ায় অধিক ফলন হয়েছে। যদি ধানের ভালো দাম পাওয়া যায়, খরচ পুষিয়ে লাভ হবে।
উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপ—সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, সরকার যদি উন্নয়ন সহায়তা বৃদ্ধি করে এবং ভর্তুকি মূল্যে আরও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি প্রদান করে তাহলে চাষাবাদে কৃষকের খরচ কমে যাবে। এতে করে কৃষকরা ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। চাষিরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে চাষাবাদ করায় এ বছর আমনের ফলন ভালো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান—উদ—দৌলা বলেন, তাহিরপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ৩ জন উপ—সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্থানীয় কৃষকদেরকে উন্নত জাতের বীজ ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকেন। চলতি আমন মৌসুমে সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে উপজেলায় কৃষকদেরকে ৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৩টি হ্যান্ড রিপার ও ২টি মারাইকল দেয়া হয়েছে। এতে স্বল্প খরচে ধান কর্তন, মাড়াই, ঝাড়াই এবং প্যাকেটিং করে মাঠ থেকে ধান আনা সহজ হবে। পর্যায়ক্রমে কৃষকরা যান্ত্রিক নির্ভরশীল হলে শ্রমিক সঙ্কট কেটে যাবে এবং ফসল উৎপাদন বাড়বে।