তাহিরপুরে ইউএনও’র মোবাইল ফোন নাম্বার ক্লোন করে প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’র (ইউএনও) মোবাইল ফোন নাম্বার ক্লোন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে প্রতারণার খবর পাওয়া গেছে। ওই প্রতারক নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে উপজেলার ১০ জন প্রধান শিক্ষককে ফোন করে। এবং বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা বলে ৭ হাজার টাকা বিকাশ করতে নির্দেশ দেয়। তবে প্রতারকের এরূপ কথায় সন্দেহ হলে শিক্ষকরা বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানায়। তবে একজন প্রধান শিক্ষক প্রতারকের দেওয়া বিকাশ নাম্বারে ৭ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। গতকাল বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল সকাল ১০ ঘটিকার সময় উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এক প্রতারক নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে কারো কাছে ০১৯০৫০৮১০০৮ নাম্বার থেকে ফোন করে আবার কারো কাছে ইউএনও’র সরকারি গ্রামীণ সীমের নাম্বার ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ দেবার কথা জানায়। এবং দুপুরে এসে ইউএনও’র কার্যালয় থেকে ল্যাপটপ নিয়ে যাবার নির্দেশ দেয়। তবে এজন্য ৭ হাজার টাকা বিকাশে দেওয়ার কথা বলে ওই প্রতারক। তার এমন কথায় শিক্ষকদের সন্দেহ হলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন শিক্ষকরা। তবে বড়দল পুরান হাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন জানান, ওই প্রতারকের দেওয়া বিকাশ ০১৮৩৭৭৯৯৮০ এজেন্ট নাম্বারে ৭ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সরোয়ার লিটন বলেন, ইউএনও স্যারের মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে আমাকে ফোন দিলেও কথা বলার ধরণে আমি বুঝতে পারি এটি প্রতারকের কাজ। আমি সাথে সাথেই ইউএনও স্যার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয় কে বিষয়টি অবহিত করি।
তাহিরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী জাহান বলেন, ইউএনও স্যারের সাথে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হই। এবং তাহিরপুর থানায় গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে অভিযোগ দিয়েছি।
তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আকিকুর রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। যাচাই বাছাই করে প্রতারককে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।