তাহিরপুরে একশ পরিবার পেল ৩০ দিনের খাবার

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে একশ পরিবার পেল ৩০ দিনের খাবার। পবিত্র রমজান, ঈদ ও করোনা দুর্গত মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশন। শুক্রবার তাদের পক্ষ থেকে তাহিরপুর উপজেলার রাজধরপুর গ্রাম থেকে উপজেলার সাতটি গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত একশ পরিবারের মধ্যে ৩০ দিনের খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। গ্রামগুলো হলো রাজধরপুর, মারালা, সাহেবনগর, ঠাকুরহাটি, ভাটি তাহিরপুর, মধ্য তাহিরপুর ও উজান তাহিরপুর। প্রতিটি প্যাকেটে ২০ কেজি চাল, দুই কেজি করে ডাল, চিনি, আটা, আলু, এক কেজি করে খেজুর, লবণ, ছোলা, মুড়ি এবং দুই লিটার সয়াবিন তেল,আধা কেজি গুড়ো দুধ রয়েছে।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ সজীব, সমকাল তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ তাহিরপুর উপজেলা সভাপতি আহমেদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মনিরাজ শাহ, সদস্য ধীমান চন্দ, শাহরুখ হাসান,আছমাউল, সজিব চন্দ, শঙ্কর চন্দ, মোনায়েম শরীফ প্রমুখ।

রাজধরপুর গ্রামের শুকুর আলী (৭০) এই খাদ্যসামগ্রী পেয়ে বলেন, রাজধরপুর গ্রামটি হাওরের বিচ্ছিন্ন এলাকাতে। সরকারী ত্রাণ ও সুযোগ সুবিধা কখনো এ গ্রামে এসে পৌছে না। করোনার কারণে কাজ কামে যাইতে পারি না। সবাই ঘরে থাকি। খাইয়া না খাইয়া বেঁচে আছি। একসাথে এতকিছু ত্রাণ পাইমু কখনো আশা করি নাই। এখন রমজান মাস ও ঈদ উদযাপন করতে আমাদের আর কোন সমস্যা হবে না।

রাজধরপুর গ্রামের মসজিদের ঈমাম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজধরপুর গ্রামের লোকজন খুবই গরীব। তারা আমাকে নিয়মিত মাসিক বেতন দিতে অক্ষম। এমতাবস্থায় একসাথে তিনি এ মাসের খাবার পেয়ে তিনি আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পৈন্ডুপ গ্রামের ৭৫ বছরের বৃদ্ধা আরতি রানী সরকার বলেন, সমকাল সুহৃদ সমাবেশের লোকজন আমার বাড়িতে এসে বৃহস্পতিবার ত্রাণের টুকা দিয়ে গেছিল। শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধরপুর গ্রামে আসি ত্রাণ নিতে। একসাথে এতো ত্রাণ নিয়ে বাড়ী যাওয়া আমার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব ছিল না। আমার এ অবস্থা দেখে সমকাল সুহৃদ সমাবেশের লোকজন আমার পাওয়া ত্রাণ সামগ্রীগুলো বাড়িতে পৌছে দিয়ে গেছে।

ভাটি তাহিরপুর গ্রাামের বিধবা রতœা বেগম বলেন, আমার পরিবারের কর্মক্ষম যারা সবাই গৃহবন্দি। কাজকর্ম না থাকায় রমজান মাসটা কীভাবে কাটবে ভেবে কূল পাচ্ছিলাম না। এতো ত্রাণ একসাথে পাওয়ার পর এখন আর রমজান ও পবিত্র ঈদ পালনে তাহার আর কোন সমস্যা হবে না। এ জন্য তিনি সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সদস্য ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মধ্য তাহিরপুর গ্রামের জুমকি র্বর্মন জানান, স্বামী ও ২ মেয়ে নিয়ে আমাদের সংসার। তাহিরপুর বাজারের খোলা আকাশের নীচে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে স্বামী মিন্টু বর্মন লন্ড্রির ব্যবসা করে সংসার চালাতো।বাজারে লকডাউনের কারণে স্বামীর ব্যবসা বন্ধ থাকার পুরো মাসটিই ছিলাম অনাহারে অর্ধাহারে। একসাথে এতো ত্রাণ পেয়ে জুমকি র্বর্মন জানান,এ যেন আমাদের পরিবারের উপর উপওয়ালার আশ্বির্বাদ পড়েছে।