তাহিরপুরে খলায় ধান নিতে কৃষকের দুর্ভোগ

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
সুনামগঞ্জ জেলার বৃহৎ বোর ফসলী ধানের হাওর তাহিরপুর উপজেলার শনি, মাটিয়ান, মহালিয়াসহ হাওরের ধান খলায় নিতে কৃষকদের নানামুখী দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। হাওরের ভিতরের জাঙ্গাল (রাস্তা) গুলো সরু এবং কাঁচা থাকার কারণে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই কৃষকরা ধানের বোঝা নিয়ে হাঁটতে পারেন না কৃষকরা। এমনকি হ্যান্ডট্রলি দিয়ে ধানের মুটি নিয়ে খলায় আসতে অনেক সময় ট্রলি উল্টে হতাহতের ঘটনা ঘটে। অপরদিকে একটি হ্যান্ডট্রলি রাস্তা পাড়ি দিলে অন্যটি অপেক্ষমান করতে হয়। এতে করে কৃষকরা তাদের কাটা ধান নিয়ে নানামুখী বিপত্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হাওরপাড়ের কৃষকরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক ইউনূছ আলী ও সুনীল সরকার বলেন, শনির হাওরের কাছারির জাঙ্গাল (রাস্তা), সেবার দাইর জাঙ্গাল, লালদাইর জাঙ্গাল, বীরনগরের জাঙ্গাল, দিঘা কাইছমার জাঙ্গাল ও নিজাম হাজীর জাঙ্গাল দিয়ে শনির হাওরের কৃষকরা তাদের জমির ধান কেটে গরুর গাড়ী কিংবা হ্যান্ডট্রলি দিয়ে তাদের ধানের খলায় নিয়ে আসতে হয়। রাস্তাগুলো কাঁচা ও সরু থাকার কারণে কৃষকরা মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হাওরের জাঙ্গালগুলো পাকা ও প্রসস্তকরণ ছাড়া কোন বিকল্প নেই বলে তারা জানান।
উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক নূরুল হক বলেন, হাওরে ধানকাটার মজুরির চেয়ে পরিবহনের মজুরি বেশী। এ সমস্য দূরীকরণে হাওরের জাঙ্গালগুলো পাকা করনের বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন, হাওরের ফসল সহজে কৃষকের ধানের খলায় আনার জন্য অভ্যন্তরীন রাস্তাগুলো পাকাকরণের বিষয়ে এলজিইডির মাধ্যমে একটি প্রাক্ষলন তৈরী করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে দ্রুত সময়ের মধ্যেই হাওরের ভিতরের রাস্তাগুলো পাকা করা প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, হাওরের ফসল সহজে উঠানোর জন্য সরকার সকল হাওরের রাস্তা পাকাকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। দ্রুত সময়ের তা বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।