তাহিরপুরে খাদ্যগুদাম হুমকিতে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি

গোলাম সরোয়ার লিটন
তাহিরপুর উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলের কারণে এ বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিন দিন ধরে জেলা শহর সুনামগঞ্জের সাথে তাহিরপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। উপজেলার ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। ২০টি হাটবাজার পানিতে নিমজ্জিত। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে অবস্থা আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বন্যা আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাওরপাড়ের লোকজন মাছ ধরা ও বালু উত্তোলন কাজে যেতে পারছেন না। এতে করে লোকজনের মধ্যে অর্থাভাব দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বন্যার্থদের দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় নৌকা করে যাচ্ছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছেন এবং প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার বিতরণ করছেন।
তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিত ভয়াবহন রূপ নিয়েছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানির চাপে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কসহ উপজেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ঢেউয়ের কবলে হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাওরপাড়ের লোকজনের অন্যতম পেশা মাছ ধরা এবং বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় শ্রমজীবী লোকজন পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বন্যার পানিতে এ পর্যন্ত উপজেলার ২৪ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার ৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্থরের ১২টি প্রতিষ্ঠানেরভেতর পানি প্রবেশ করেছে। এ সকল বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। উপজেলার খাদ্যগুদামের আঙ্গিনাতে পানি উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বিদ্যালয়টির একাংশ পানিতে নিমজ্জিত। আরেক অংশে ৯টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। পাহাড়ী ঢলের পানিতে যাদুকাটা নদীর ভাঙ্গনে পড়েছে বিদ্যালয়টি।
ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মনধন চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, খাদ্য গোদাম বন্যার প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি ঠেকাতে গোদামের প্রবেশমুখে ইট লাগানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। পানির কারণে জরুরী বিভাগ দ্বিতীয়তলাতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনির হাওরপাড়ের মধ্য তাহিরপুর গ্রামের জেলে নিয়ামুল ইসলাম বলেন, মাছ ধরেই ৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরতে যেতে পারছিনা। এতে করে পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।
সোহালা গ্রামের বারেক মিয়া বলেন, ঘরের ভেতর পানি আবার বালু উত্তোলন ও করতে পারছিনা। এ কারণে ঋণ করে পরিবার চালাচ্ছি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। আর জরুরী ত্রাণ কার্যক্রমও চলবে। আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকা করে স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদের নিয়ে বন্যা আক্রান্ত হাওরপাড় ও মেঘালয় সীমান্তের সবগুলো গ্রাম ঘুরছি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মধ্যে আজ চিড়া, গুড় ও পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদর পাশে থাকতে প্রতিদিন গ্রাম থেকে গ্রাম ঘুরছি।