তাহিরপুরে খাদ্য গোদামে ধানের বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলায় সিদ্ধ চাউলের আটো রাইস মিল না থাকা সত্বেও উপজেলা খাদ্য গোদামে ১ হাজার ৭৮ মে. টন সিদ্ধ চাউলের বরাদ্দ আসায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশ দেখা দিয়েছে। উপজেলা খাদ্য গোদাম অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৭৮ মে. টন সিদ্ধ চাল, ১২ হাজার ৪৪মে. টন আতব চাল এবং উপজেলা কৃষকদের কাছ থেকে ৫৩১ মে. টন ধান নেয়ার বরাদ্দ এসেছে।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, তাদের একমণ ধান উৎপাদন করতে ব্যয় হয়েছে ৮শ টাকা এবং স্থানীয়ভাবে একমণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে পাঁচ’শ থেকে সাড়ে পাঁচ’শ টাকায়। প্রতি মণ ধানে লোকসান গুনতে হচ্ছে আড়াইশ থেকে ৩শ টাকা। সরকার হাওরের হাজার হাজার কৃষকের দিকে নজর না দিয়ে অচল মিল মালিকদের দিকে নজর দিচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলায় কোন সিদ্ধ চাউলের অটো রাইস মিল না থাকা সত্বেও উপজেলা খাদ্য গোদামে ১হাজার ৭৮ মে. টন সিদ্ধ চাউলের বরাদ্দ এসেছে। অথচ হাওরপাড়ের কৃষকরা মানবন্ধন করেও খাদ্য গোদামে ধানের বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে পারছে না। তাদের ধারণা এই সিদ্ধ চালগুলোও তো এক সময় উপজেলা খাদ্য গোদামে ঢুকবে। হয়তো কিভাবে ঢুকবে সে প্রক্রিয়া হাওরের কৃষকের জেনেও কোন লাভ নেই। কৃষকদের দাবি ওই সিদ্ধ চালের বদলে সরকার ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করলে কৃষকরা একটু লাভবান হবেন।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক আলী মর্তূজা বলেন, সম্প্রতি জানতে পারলাম উপজেলা খাদ্য গোদামে আতব চাল নেয়ার বরাদ্দ এসেছে তাহিরপুরের কিছু অচল মিল মালিকদের নামে। এ সমস্ত মিলগুলো সারাবছরেই বন্ধ থাকে। কেবল বৈশাখ মাস এলেই তাদের মিলের বিপরীতে সরকার কিছু বরাদ্দ দেয়। এ বরাদ্দ পেয়ে তারা একটু সচল হয়। সরকার এ সকল অচল মিল মালিকদের দিকে না চেয়ে সচল কৃষকদের দিকে নজর দিলে হাওরবাসী কিছুটা হলেও উপকৃত হতো।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুছ ছালাম বলেন, তাহিরপুর উপজেলায় চালের সিদ্ধ মিল না থাকা সত্বেও ১হাজার৭৮ মে. টন সিদ্ধ চাল ক্রয়ের বরাদ্দ আসা হাস্যকর বিষয়। এটি পরিবর্তন করে ধান ক্রয়ের বরাদ্দ করতে পারলে কৃষকগণ উপকৃত হবে।