তাহিরপুরে ত্রাণবাহী নৌকা দেখলেই ভীড় করেন বানবাসি মানুষ

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে ত্রাণবাহী নৌকা দেখলেই বসত বাড়ি থেকে দৌঁড়ে নদী পাড়ে এসে ভীড় জমায় হাওরপাড়ের বানবাসি মানুষ। সম্প্রতি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে এমন চিত্রই দেখা গেছে হাওরপাড়ের গ্রামগুলোতে। গত ১১দিন ধরে বন্যা চলাকালে এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন হতে তাহিরপুরে ৬৪ টন চাল, ১০১৫ টি ত্রাণের প্যাকেট ও ৫৫ বান্ডিল ঢেউটিন এসেছে। ৬৪ টন চাল উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে। ১০১৫টি ত্রাণের প্যাকেট ৭ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের মাঝে বিভাজন করে বণ্টন করা হয়েছে, ৫৫ বান্ডিল ঢেউটিন এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়নি।
বন্যায় উপজেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর সড়ক ১০ ফুট গভীরে গর্ত হয়ে ২০ দিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাগলি হতে বারেকের টিলা পর্যন্ত ১০টি স্থানের সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তাহিরপুর বাদাঘাট সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলার রাস্তাঘাট অবকাঠামো বাবদ আনুমানিক ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এক হাজার পরিবার পানিবন্দি।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নটি দুর্গম এলাকায়। এ ইউনিয়নে ত্রাণ ত্রাণ বিতরণ হয়েছে কম।
উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল বলেন, বন্যা হইছে ১১দিন চলছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে আমরা শুধু খবর পাই। আমাদের এখানে কেউ ত্রাণ নিয়ে আসেনি।
একই ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, বন্যা হওয়ার পর থাইক্যা আমরার ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতে ঘুমাই আবার ঢেউয়ের শব্দ শুনে আমাদের ঘুম ভাঙে। বন্যায় আমরার শুধু ঘরবাড়িই ভাঙ্গেনি আমাদের গরুর খাদ্য খড়কুটা পানিতে নিয়ে গেছে। আমরারে সাহায্য করতে এ পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেননি।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় বলেন, এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন হতে তাহিরপুরে ৬৪ টন চাল, ১০১৫টি ত্রাণের প্যাকেট ও ৫৫ বান্ডিল ঢেউটিন এসেছে। ত্রাণ সামগ্রী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে। ঢেউটিন এখনো বিতরণ করা হয়নি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল বলেন, তাহিরপুর উপজেলার সড়ক অবকাঠামো বাবদ আনুমানিক ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এক হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি। উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নটি একবারেই দুর্গম ও অবহেলিত। পরবর্তী ত্রাণসামগ্রী আমরা দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে বিতরণ করবো।