তাহিরপুরে ত্রাণের জন্য ছটফট

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে পানি বন্দি মানুষের বসতভিটা ঢেউয়ের আঘাতে ভেঙ্গে নিচ্ছে। গৃহহারা মানুষগুলো আশপাশের বিদ্যালয় কাম বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।
শুক্রবার উপজেলার হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, হাওরের প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে তাদের বসতভিটা ভেঙ্গে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে নোয়ানগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কথা হয় ৬৫ বছরের বৃদ্ধ আব্দুর রশিদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, বানের পানিতে তার বসতভিটা ভেঙ্গে খানখান হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে নোয়ানগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
একই কথা জানালেন নোয়ানগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া মামাল মিয়া, শামীম মিয়া ও নাহিদ হাসান কাঞ্চন। ওখানে আশ্রয় নেয়া সবাই উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা।
নোয়ানগর গ্রামের পার্শ¦বর্তী গ্রামের নাম মারালা। ওই গ্রামের নজরুল ইসলাম, ছয়ফুল ইসলাম, সাইকুল ইসলাম ও আনু মিয়ার বসতভিটা ঢেউয়ের কবলে ভেঙ্গে পড়ায় তারা সবাই প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি তালুকদার জানান, উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে ৩টি, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে ৩টি, বালিজুড়ি ইউনিয়নে ১টি ও বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামে ১টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিয়া হোসেন বলেন, সরকারীভাবে বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হলেও কোন প্রকারের ত্রাণসামগ্রী বন্যাশ্রয় কেন্দ্র এসে পৌঁছেনি। বন্যশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে আশ্রিতরা খাদ্যের জন্য ছটফট করছে।
এ ধরনের অবস্থা উপজেলার শতাধিক গ্রামে বিরাজমান রয়েছে। গ্রামগুলোর মধ্যে বালিজুরী, বড়খলা, আনোয়ারপুর, লোহাচুরা, দক্ষিণকূল, নয়াহাট, বারুঙ্কা, গোবিন্দশ্রী, রতনশ্রী, চতুর্ভূজ, ভাটি তাহিরপুর, রাজধরপুর, পৈন্ডুপ, সাহেবনগর, উজান তাহিরপুর, ভবানীপুর, সন্তোষপুর, জাঞ্জাইল, ইকরামপুর, লামাগাঁও, দুমাল, মাহতাবপুর, মাহমুদপুর, রামজীবনপুর, গোপালপুর, লক্ষ্মীপুর, মাটিয়ান, পিরিজপুর, শরীফপুর, চিকসা, জামালগড়, গাজীপুর, বড়দল, কাউকান্দি, চানপুর, মাহরাম, নোয়াহাট, পাতারগাঁও, ধরুন্দ, ইউনুছপুর, লক্ষ্মীপুর, গোলকপুর, মন্দিয়াতা, শিবরামপুর অন্যতম।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, তাহিরপুরের মানুষ বারবার ফসল হারিয়ে দিশেহারা এবং সাম্প্রতিক বন্যায় মানুষের বসতভিটা, রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এলাকার জনগণ, জনপ্রতিনিধি সহ সকলেই দিশেহারা।
তিনি আরো বলেন, বন্যার পানি ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বন্যাশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণসামগ্রী নেই বললেই চলে। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।