তাহিরপুরে বন্যার পরিস্থিতি অবনতি, ৩১টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র চালু

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে বন্যার পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। সমগ্র উপজেলা জুড়ে বন্যার পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয় দুর্গতদের জন্য ৩১ টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই বানবাসী লোকজন উপজেলার বন্যাশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের বসতঘরে পানি উঠার কারণে হাঁস, মুরগী, গরু, ছাগল ও ধান নিয়ে পড়ছেন নানামুখী বিপাকে। অনেকেই নিকটাত্মীয় স্বজনদের (বাড়িতে যাদের এখনো পানি উঠে নাই) ধান রাখছেন। রবিবার সকাল বেলা তাহিরপুর বাজারে বানবাসী লোকজন তাদের বসতবাড়িতে পানি উঠার কারণে সস্তা দামে তাদের পালিত হাঁস মুরগী বিক্রি করতে দেখা গেছে।
তাহিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী সাব্বির আহমদ জানান, বন্যার পূর্বে এক কেজি ওজনের যে দেশী মুরগী বাজারে বিক্রি হয়েছিল ৪’শ টাকায় তা রবিবার বিক্রি হয়েছে দেড় থেকে দু’শ টাকায়। প্রতিটি হাঁস বিক্রি হয়েছিল এক’শ টাকায়। বসত বাড়ির গোয়ালে পানি উঠার কারণে উপজেলা সদরের বানবাসী লোকজন তাদের গৃহপালিত গরু ছাগল নিয়ে বিভিন্ন অফিস প্রাঙ্গণে আশ্রয় নিয়েছেন। একদিকে বানের (বন্যার) পানি অন্যদিকে আফালের (ঢেউয়ের) শব্দ যেন হাওরবাসীকে অতিষ্ট করে তুলেছে। ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক এবাদুল ইসলাম বলেন, আমার বসত বাড়িতে বানের পানি উঠার কারণে গরু বাছুরগুলি সরকারী টিএন্ডটি অফিসের আঙ্গিনায় নিয়ে রেখেছি।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, বর্ষায় ঢেউয়ের কবল থেকে বাঁচার জন্য চালিয়াবন দিয়ে যে বাঁধ দিয়েছিলাম তা এবারের বন্যা ও প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে চুরমার হয়ে গেছে। এখন আশপাশের গ্রাম থেকে কচুরীপানা সংগ্রহ করে এনে কোন রকম বাড়িঘর রক্ষার জন্য প্রাণপণ চেষ্টায় আছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুব্রত দাস বলেন, তিনি প্রতিটি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন। বিশেষ করে শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতদের খিচুরী খাওয়ানো হচ্ছে।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী খসরুল আলম বলেন, তিনি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড, গ্রাম ও পাড়া মহল্লায় গিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সরকারী ও ব্যক্তিগতভাবে সহযোগীতা করবেন বলে তিনি তাদের আশ^াস দেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ বলেন, উপজেলায় ৩১টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাদেরকে শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে।