তাহিরপুরে বর্ডারহাট চালু হচ্ছে

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে শীঘ্রই বর্ডারহাট চালু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তাহিরপুর উপজেলার সাহিদাবাদ সীমান্ত এলাকায়  ভারত-বাংলাদেশ যৌথ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে হযরত শাহ আরেফিন আস্থানার হলরুমে দুপুর ১২টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বর্ডার হাট এর সীমানা নির্ধারণ সহ বর্ডার হাট উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্বিক ফলপ্রসু আলোচনা করা হয়।
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের শাহিদাবাদ ও ভারত রাষ্ট্রের নালিকাটা (গুমাঘাট ওয়েস্ট খাসিয়া হিলস) মেঘালয় নামক স্থানে বর্ডারহাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসককে পাঠানো চিঠি এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পাঠানো চিঠির তথ্য সভায় উপস্থান করা হয়।
দু‘দেশের সিদ্ধান্তে সীমান্তের ১২০৩/৭-এস এবং ১২০৩/৮এর মধ্যবর্তী জিরো লাইনে বর্ডার হাটের স্থান নির্ধারণের জন্য প্রস্তাবনা হয়েছে। হাট এরিয়ার দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট এবং প্রস্থ ৭৫ ফুট হবে। অপরদিকে হাটের উভয় দিকে দুটি গেইট থাকবে এবং ২৫টি পণ্য উভয় দেশ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। ৫ কিলোমিটার এলাকার জনগণ হাটটিতে ক্রয়বিক্রয় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কবে হাট বসবে, কতক্ষণ চলবে তা উভয় দেশের হাট পরিচালনা কমিটি নির্ধারণ করবে।
এছাড়া জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাহিরপুর ভূমি অফিস বর্ডার হাটটির সম্ভাব্য স্থান জরিপ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
বর্ডার হাটে কি ধরনের পণ্য সামগ্রী ক্রয় বিক্রয় হতে পারে, ব্যবসায়ীরা কী ধরনের সুযোগ সুবিধা পেতে পারেন অথবা সাধারণ ক্রেতারাই বা কতটুকু সুবিধা ভোগ করতে পারবেন তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে জল্পনা কল্পনা চলছে। অনেকেই বলেন, বর্ডারহাট চালু হলে এলাকার মানুষের উন্নয়ন হবে।
সূত্রে জানা যায়, বর্ডার হাট চালু হলে হাটে মসলা, মাংস, বনজ দ্রব্য, বাঁশ , লুঙ্গি, সিরামিক সামগ্রী ও ফলের রস ইত্যাদি পণ্য বেচাকেনা হতে পারে। তবে এই হাটে ব্যবসা করতে হলে  
ব্যবসায়ীকদের নির্দিষ্ট কার্ডধারী হতে হবে। কার্ডধারী ব্যতিত অন্য কেউ ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে না। ৫০ ইউএস ডলারের বেশী নিয়ে হাটে যাওয়া যাবে না।
অপর একটি সূত্রে জানা গেছে হাটের চারিদিকে কাঁটাতারের বেড়া থাকবে। বেড়ার বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে কেনাকাটা করা যাবে না। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সীমান্ত হাট কমিটি গঠন করা হবে।  
বাংলাদেশের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে প্রতিনিধিত্ব করেন  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম, ২৮ বিজিবি অধিনায়ক কর্ণেল মো. নাসিরউদ্দিন, পুলিশ সুপার সুনামগঞ্জ মো. বরকত উল্লাহ , তাহিরপুর উপজেলা নিবাহী অফিসার পূর্ণেন্দু দেব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার ববি, সহকারী কমিশনার কাস্টম (ভ্যাট) মো. আসাদ উল্লাহ, বাদাঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন।
ভারতের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন মেঘালয় সিভিল সার্ভিসের  থ্রিদ্বীপ টুআই সি  ১১ বিএসএফ  ব্যাটালিয়ান জর্জ খার্মি এমসিএস, স্পেয়ার স্পাসলিং ব্লক ডেভেলাপমেন্ট অফিসারসহ ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল। সভা শেষে উভয়পক্ষ  যৌথভাবে চুড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ করেন।