তাহিরপুরে বালির বাঁধ

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরে বালি দিয়ে বাঁধ তৈরি হয়েছে। তাহিরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাঁধের প্রকল্প চেয়ারম্যানকে বাঁধ থেকে বালি সরিয়ে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের জন্য চিঠি দিয়েছেন। বুধবার আনোয়ারপুর বাজারে বাঁধের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্নেন্দু দেব বালির তৈরি বাঁধ দেখে তাদেরকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন, সেই সাথে বাঁধ থেকে বালি সরানোর নির্দেশ দেন।
শনি হাওরের ‘হোসেনপুর হতে আনোয়ারপুর-ছিফতনগর বাধেঁর উচ্চতা বৃদ্ধি ও ভাঙা বন্ধকরণ’ উপপ্রকল্পের আওতায় আনোয়ারপুর বাজার পার্শ্বস্থ শনিা হাওর ফসল রক্ষা বাঁধটিতে মাটির পরিবর্তে বালি ব্যবহার করছিলেন পিআইসি সদস্যরা।
বুধবার সরজমিনে আনোয়ারপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে গিয়ে দেখা যায় গত বছরের বন্যায় সৃষ্ট ভাঙ্গা অংশে মাটির পরিবর্তে বালি দিয়ে বাঁধ দিচ্ছেন উক্ত প্রকল্প কমিটি। বাঁেধর খুব  নিকট থেকে বালি কেটে  বাঁধ তৈরি করছেন তারা।
এলাকাবাসী জানান, বিগত জুলাই মাসের বন্যায়   
যাদুকাটা নদী উপচে আনোয়ারপুর বাজারের দক্ষিণের রাস্তাটি ভেঙে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নদী খনন প্রকল্পে কাজ শুরু হলে যাদুকাটা নদী খননের ঠিকাদার ড্রেজার দিয়ে উক্ত গর্তটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করে তুলেন। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড আবার উক্ত স্থানে বেরী বাঁধের প্রকল্প দেয়। এই সুযোগ পেয়ে প্রকল্পের গোড়া থেকে বালি উত্তোলন করে বাঁধ তৈরি করছে পিআইসির দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
হাওরের বাঁধ নির্মাণের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে বাঁেধ কমপক্ষে ৭০ ভাগ মাটি থাকতে হবে, সেই সাথে বাঁধ থেকে অন্তত ৫০ ফুট দূর থেকে মাটি সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু আনোয়ারপুর বাজারের পাশের হারও রক্ষা বাঁধে নির্মাণের কোন ধরনের নির্দেশনা না মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বাঁধের কাজ করছেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সামায়ুন কবির বলেন, মাটি না পাওয়ায় বালি দিয়ে বাঁধ তৈরি করেছিলাম।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্ণেন্দু দেব জানান, নির্দেশনা পরিপন্থী বাঁধ তৈরি করায় আমি প্রকল্পের পিআইসিকে শোকজ করেছি এবং বালি দিয়ে বাঁধের কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।