তাহিরপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে স্থানীয় এক ইলেক্ট্রিশিয়ান কর্তৃক হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার এ বিষয়ে উপজেলার মানিগাঁও গ্রামের ২০ জন ভুক্তভোগি বিদ্যুৎ গ্রাহক সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামের ২০ জন বিদ্যুৎ গ্রাহকের বসত ঘরে ওয়্যারিং করে একই গ্রামের ইলেক্ট্রিশিয়ান আলাল উদ্দিন। আলাল উদ্দিন ২০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার বাবদ ৮ হাজার টাকা নেয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনদেরকে দেয়ার কথা বলে। এছাড়াও সে তাদের কাছে থেকে মিটার জামানত বাবদ ১ হাজার ১শ’ করে টাকা নেয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মিটারের টাকা গ্রাহকরা নিজেরা অফিসে দিতে চাইলে ইলেক্ট্রিশিয়ান আলাল উদ্দিন তাতে বাধা দেন। গ্রাহকদের সে জানায়, অফিসের লোকজন গ্রাহকদের কাছ থেকে সরাসরি মিটার বাবদ জামানতের টাকা জমা গ্রহণ করেন না। সে নিজে টাকা নিয়ে অফিসের লোকজনদেরকে ঘুষ দিয়ে মিটারের ব্যবস্থা করে দিবে। অথচ মিটার ও ট্রান্সফরমার বাবদ সে টাকা নিলেও মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও তাদের ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ বা মিটার লাগেনি। এ নিয়ে গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মানিগাঁও গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক রফিকুল, খুছরাতুন নেছা ও রাশিদ জানান, ইলেক্ট্রিশিয়ান আলাল উদ্দিন তার ভাইয়ের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বিদ্যুৎ অফিসে রিপোর্ট জমা করে এবং গ্রামের সহজ সরল মানুষদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসৎ কর্মচারীদের নিয়ে সে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
ইলেক্ট্রিশিয়ান আলালউদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, অভিযোগটি সত্য নয়। তাকে ফাঁসানোর জন্য তার প্রতিপক্ষরা এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
তাহিরপুর এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক গোলাম মোর্শেদ জানান, এ ধরনের একটি অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। কেউ যদি গ্রাহকদের কাছ থেকে মিটার বা ট্রান্সফরমার বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, শুধু মাত্র প্রতি মিটার জামানত বাবদ ৪শ টাকা আর সদস্য ফি ৫০শ টাকা লাগে। এর বাইরে যদি কেউ টাকা নেয় তাহলে এটা অবৈধ।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার অখিল কুমার সাহা অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পল্লী বিদ্যুতের মিটারের কথা বলে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও ট্রান্সফরমার বাবদ টাকা নেয়া অবৈধ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।