তাহিরপুরে মাদকের ছড়াছড়ি

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুরে করোনা কালেও বিষাক্ত মাদকের ছড়াছড়ি। উপজেলাসহ সীমান্তবর্তী এলাকার যুবসমাজ মাদকের বিষাক্ত ছোবলে বিপথগামী হচ্ছে। কিছুদিন পরপর পুলিশ, বিজিবি মাদক আটক করলেও মাদকের প্রবণতা কমছেনা, বরং করোনাকালেও মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবী দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কিছুদিন আগে তাহিরপুর সীমান্তবর্তী কলাগাঁও বাজারে ইয়াবা বিক্রির একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকার সচেতন মহল উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় নিত্য নতুন মাদকের থাবায় যুক্ত হচ্ছে স্কুল, কলেজ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের শ্রেণী পেশার মানুষজন। ইতোমধ্যে উপজেলার অনেক মাদক ব্যবসায়ী জামিনে জেল থেকে বের হয়ে আবার বেপরোয়া হয়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যে মাদক আটক হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে জড়িতরা।
উপজেলার সচেতেন মানুষ মনে করেন, এখনেই শক্ত হাতে মাদক নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে ধ্বংস হয়ে যাবে উপজেলার যুবসমাজ। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভিন্ন স্থানে সভা-সেমিনার করে এবং প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করলে মাদকদ্রব্য কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তাহিরপুর সীমান্তবর্তীসহ উপজেলার বাদাঘাট, তাহিরপুর সদর, শ্রীপুর, কাউকান্দি, চাঁনপুর, চারাগাও, বড়ছড়া, লাকমা, লালঘাট. কলাগাঁও, বাগলী, আনোয়ারপুর, লাউড়েরগড়, ছিলা বাজার, বারেকটিলা, বালিয়াঘাট, একতা, জনতা বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে এখন মাদকের ছড়াছড়ি। এসব স্পটে পাওয়া যাচ্ছে মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য।
তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় নেই। পুলিশ যখনেই মাদকের কোন সন্ধান পাচ্ছে, তখনেই এসব আটক করছে এবং থানায় নিয়মিত মামলা দিচ্ছে। তিনি পুলিশের পাশাপাশি এলাকার তরুণ, যুবকদের মাদক নির্মূলে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান।
সুনামগঞ্জ বিজিবি ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাকদুদুল আলম বলেন, সীমান্ত এলাকা বিজিবি কড়া নজরদারিতে আছে। যেহেতু দুই দেশেই এখন করোনার প্রাদুর্ভাব তাই এখানে কোন ছাড় নয়। বিজিবি প্রত্যেকদিনেই সীমান্ত এলাকায় মাদক আটক করছে এবং মামলা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রনে বিজিবির পাশাপাশি এলাকার সচেতন মহলকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।