তাহিরপুরে মেয়ের মারধরে আহত মা-বাবা

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
বসত ভিটা বিক্রি করে নিজের সমস্ত পুঁজির টাকা নিজের মেয়ের হাতে দিয়েও রক্ষা পেলেন না বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ (৮৫) ও তার স্ত্রী দিলবাহার (৭৫)। বৃদ্ধের মেয়ে শফিকুননাহার মা দিবসে রবিবার রাত ৮টায় তিনি ও তার সন্তানদের নিয়ে তার বৃদ্ধ মা বাবাকে বেধরক মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। আহত পিতা মাতা বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুড়া শান্তিপুর গ্রামে।
বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুড়া শান্তিপুর গ্রামের আলী আহমদ, হাবিবুর ও মাফিকনূর জানান, বৃদ্ধ আব্দুল আহাদের দুই ছেলে এমদাদুল হক ও আব্দুল কাইয়ুম তাদের মা বাবাকে ফেলে অন্যত্র কামকাজ করে দিনাতিপাত করে। বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ ও তাহার স্ত্রী লোহাচুড়া গ্রামের ৩ শতক জায়গার উপর বসবাস করে আসছিলেন। যাদুকাটা নদীতে বালিপাথরের নৌকায় লোড আনলোডের কাজ করে যে টাকা আয় হতো তা দিয়েই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার সংসার চলে আসছিল। এ অবস্থায় বৃদ্ধের ৩ শতক বাড়িরকম ভূমির উপর নজর পড়ে মেয়ে শফিকুন নাহার বেগমের। দুই বছর পূর্বে শফিকুন নাহার বেগম তার পিতা আব্দুল আহাদকে নানাভাবে ফুসলিয়ে পিতার বসতবাড়ির ৩ শতক ভূমি বিক্রি করিয়ে ৭০ হাজার টাকা সহ পিতামাতাকে মেয়ে শফিকুন নাহার বেগমের বাড়িতে আজীবণ লালন পালনের শর্তে নিয়ে আসে। সম্প্রতি বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ কোন রুজি রোজগার করতে না পারায় প্রায়ই মেয়ে শফিকুননাহারের সাথে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়াঝাটি হয়। রবিবার রাত ৮টায় মেয়ে শফিকুন নাহার বেগম ও তার মেয়ে ছেলে মাকছুরা, মুছাব্বির মিলে অমানবিক ভাবে তার পিতা মাতাকে মারধর করে বসত ঘর থেকে বের করে দেয়। এমনকি তার বসতঘর ভাঙচুর করে বিছানাপত্রও ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘরের বাহিরে ফেলে রাখে।
আহত বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ (৮৫) ও তার স্ত্রী দিলবাহার (৭৫) বলেন, ‘নিজ পুলাপাইনের হাতে মাইর খাইয়্যা হাসপাতালে আইমু জীবনেও ভাবছিনা। আমি অখন ভিটেমাটি ছাড়া খাওয়ারও কোন যোগাড় নাই। বাকী জীবনটুকু বাঁচতে তিনি সরকারের সহায়তা চান।’
এ বিষয়ে বৃদ্ধ আব্দুল আহাদের মেয়ে লোহাচুড়া শান্তিপুর গ্রামের শফিকুন নাহার বেগম বলেন, ‘আমরা দুই বোনে ঝগড়াঝাটি করলে আমার মা বাবা আমার ছোট বোনের পক্ষে থাকে। মা বাবাকে মারধর আমি করিনি তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা করেছে।
বালিজুড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. একরামুল হক বলেন, বৃদ্ধ পিতার সম্পত্তি বিক্রি করিয়ে টাকা সহ মেয়ে শফিকুন নাহার বেগম তার মা বাবাকে আজীবন লালন পালনের জন্য তার বাড়িতে এনেছিলেন। রবিবার রাতে শফিকুন নাহার ও তার ছেলেমেয়েরা যেভাবে বুড়াবুড়িকে মারধর করেছে সেটা বলার ভাষা আমার নেই।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, রবিবার রাতে লোহাচুরা শান্তিপুর গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ ও তার স্ত্রী গুলবাহারকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদেরকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও ঔষধপত্র দেয়া হচ্ছে।