তাহিরপুর আ.লীগের বর্ধিত সভায় কোরাম সংকট

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আগামী ১৭ নভেম্বরর সম্মেলনকে ঘিরে বর্ধিত সভায় কোরাম সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করে বক্তব্যও দেন।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে সভায় মাত্র ২০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেককে।
বর্ধিত সভা থেকে বেরিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এখলাছুর রহমান তারা সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে তিনি বলেন, বর্ধিত সভায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজস্ব বলয়ের লোকজনকে উপস্থিত থাকতে বলছেন। সম্মেলনের আগে এ রকম লুকোচুরির কারণে সম্মেলন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমান কমিটি দিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়।
তিনি নিরপেক্ষ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে এ নেতা বলেন, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই পদ প্রত্যাশী। এ জন্য তাদের পরিচালনায় সম্মেলন করলে তা স্বচ্ছ হবে না।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী মুর্তজা বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসব আমেজ বিরাজ করার কথা। কিন্তু তুলনামূলক এ ধরনের উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তার উপর আজকের এ বর্ধিত সভা দায়সারা অনুষ্ঠিত হবার কারণে এ কাউন্সিলকে ঘিরে কর্মীদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দায়িত্বশীল অনেক নেতাই আজকের বর্ধিত সভায় উপস্থিত হননি।
এর মধ্যে সহ-সভাপতি আলকাছ উদ্দিন খন্দকার, জালাল উদ্দীন, ইকবাল হোসেন তালুকদার, এ্যাড. গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোদাচ্ছির আলম সুবল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, আইনবিষয়ক সম্পাদক ইউনুস আলী, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন খন্দকার, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ফরিদ গাজী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নজরুল ইসলাম মাসুদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক কামাল আখঞ্জী, মহিলাবিষয়ক সম্পদাক মঞ্জু রানী রায়, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মিয়া হোসেনসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন না।
সাংগঠনিক সম্পাদক মোদাচ্ছির আলম সুবল বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। আমাকে ফোনে প্রস্তুতি সভার কথা জানিয়েছে, কোন চিঠি ইস্যু করা হয়নি, করা হলেও আমাকে দেয়া হয়নি। যার গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। তাছাড়া কমিটির বিগত দিনগুলোতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে আমি সন্তুষ্ট না। যে কারণে এ কাউন্সিল নিয়ে আমার তেমন কোন আগ্রহও নেই।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী মুর্তুজা বলেন, কাউন্সিল উপলক্ষে এ ধরনের বর্ধিত সভা তৃণমূলে উৎসাহ উদ্দীপনায় ভাটা পড়বে।
উপজেলা আ’লীগের সদস্য শাহ্ জাহান খন্দকার বলেন, বর্তমান কমিটির সভাপতির আস্থাভাজনদেরকেই কেবল বর্ধিত সভার চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরাও কোন চিঠি পাইনি। আমরা তৃণমূল আগামি সম্মেলনকে সার্থক ও সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সবার উপস্থিতিতে একটি বর্ধিত সভার একই সাথে সম্মেলন উপলক্ষে একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি। এদিকে গতকালের বর্ধিত সভায় উপস্থিত কেউ-ই সাক্ষর করেননি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের পর এবারই প্রথমবারে মতো কোন বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুনেদ আহমেদ।