তাহিরপুর কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে “লাউড়” স্মরণিকা প্রকাশ

হোসেন তওফিক চৌধুরী
সুনামগঞ্জস্থ তাহিরপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতি মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে “লাউড়” শীর্ষক এক গবেষণাধর্মী স্মরণিকা— ২০২২ প্রকাশ করেছে। সুদুর অতীতে বৃহত্তর সিলেট জেলা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। তন্মধ্যে লাউড় ছিল অন্যতম। ইতিহাসের ক্রমবিবর্তনে রাজ্য প্রথার বিলুপ্তি হয়েছে। সৃষ্টি হয় পরগনা প্রথার। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরগনা প্রথারও সমাপ্তি হয়। কিন্তু লাউড় রাজ্য বা লাউড় পরগনার ইতিহাস লুপ্ত হয়নি। মানুষের মুখে মুখে জনশ্রুতিতে জীবন্ত রয়েছে এসব। বিশেষভাবে তাহিরপুর উপজেলায় ছিল লাউড় রাজ্য। তাহিরপুরে সীমানা ছাড়িয়েও লাউড় রাজ্য পরিব্যপ্ত ছিল। তাহিরপুর উপজেলায়ই ছিল লাউড় রাজ্যের রাজধানী। তাহিরপুরের ইতিহাস ঐতিহ্যের এক বিরাট অংশ লাউড়।
ইতিহাস ঐতিহ্যের নিদর্শন রয়েছে লাউড়ে। সঠিক ও যথাযথভাবে তথ্যানুসন্ধান—গবেষণা করা হলে এই চাপা পড়া অবস্থা থেকে এক সমৃদ্ধ ও আলোকিত অধ্যায় বিস্মৃতির গহীন অতল থেকে উদ্ধার হতে পারে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়েই এই স্মণিকার প্রকাশ। স্মরণিকায় দুইটি পর্ব আছে। প্রথম পর্বে ‘লাউড় অঞ্চলের কিছু কথা’ প্রবন্ধ লিখেছেন হোসেন তওফিক চৌধুরী। লাউড়ের ইতিবৃত্ত লিখেছেন মুকুল আবেদিন এবং স্বাধীন লাউড় রাজ্যের ইতিকাহিনী লিখেছেন এ.এস.এম. সামাদুল ইসলাম। এছাড়াও স্মরণিকা লিখেছেন আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, মোঃ মাসুদ আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, হাজী আব্দুস শহীদ, মোঃ হাবিবুর রহমান, সামছুল আলম, উসমান গণি ও কে.জি মানব তালুকদার। দ্বিতীয় পর্বে ঐতিহ্যবাহী তাহিরপুর উপজেলা নিয়ে কবিতার ছন্দে সুদুর অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিবরণ লিখেছেন শিক্ষাবিদ অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম। কবি ইলাহি বখত ফকির লাউড়ের সুধী সন্তানেরা নামে কবিতা লিখেছেন। এছাড়াও রবীন্দ্র নারায়ন তালুকদার, মোঃ মোছায়েল আহমদ, হাজী মোঃ মফিজ উদ্দিন, কাসমির রেজা, এ এস এম হামিদুল ইসলাম, তাইবা খাতুন, সাদিয়া সুলতানা ঋতু, সাজিদুর রহমান গেলাপ ও এ কে এম ওয়াজুদুল ইসলাম লিখেছেন কবিতা। আব্দুল কাদির লিখেছেন তাহিরপুর উপজেলা সমিতির সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত। স্মরণিকায় তাহিরপুরের প্রসিদ্ধ স্থান সমূহের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। স্মরণিকা পর্ষদের সম্পাদনায় স্মরণিকা প্রকাশ হয়। হোসেন তওফিক চৌধুরীকে আহবায়ক করে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, নুরুল আবেদিন ও মাসুদ আহমদকে সদস্য নিয়ে পর্যদ গঠন করা হয়। অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলামে ছিলেন এই পর্ষদের সমন্বয়ক। তাহিরপুর উপজেলার চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল এবং আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম এই প্রকাশনার পৃষ্ঠপোষক। উল্লেখ্য যে, তাহিরপুর সমিতি বছর দুয়েক আগে তাহিরপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে অপর একটি স্মরণিকা প্রকাশ করে। সুনামগঞ্জের ‘অক্ষর থেকে এই স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
লেখক : আইনজীবী—কলামিষ্ট।