তাহিরপুর খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে ধীরগতি

গোলাম সরোয়ার লিটন
তাহিরপুর উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ অভিযান চলছে খুবই ধীর গতিতে। ৩১ আগস্টের মধ্যে ১৪১৫ টন ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও এ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৭২০ টন। ২৫ এপ্রিল থেকে এ ধান সংগ্রহ অভিয়ান শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমে ধান বিক্রি করছেন প্রকাশ্য লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকরা। কয়েকদিন পরই আসছে ঈদ-উল-আযহা। এ অবস্থায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে ধীর গতির কারণে আর্থিক সংকটে আছেন কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার অধিকাংশ মানুষের আয়ের প্রধান অবলম্বন হাওর থেকে উৎপাদিত এক ফসলী বোরো ধান। এ ধানেই হয় পরিবারের সারা বছরের চালের জোগান। আর অতিরিক্ত ধান বিক্রির আয় থেকে চলে পরিবারের যাবতীয় খরচ। তাই ঈদ ও পুজোর সময় এলে কৃষক পরিবারগুলোতে ধান বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যায়। বর্তমানে বাজারে ধানের মূল্য আছে সর্বোচ্চ ৬শ থেকে ৭’শ টাকা। কিন্তু সরকার খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ করছে ১০৪০ টাকা মণ দরে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে লটারীর মাধ্যমে এজন্য কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত কৃষকদের কাছে এ বছর ১৪১৫ টন ধান সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু তিন মাস পনের দিনে এ পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৭২০ টন। তবে যে সকল কৃষকের নাম লটারীতে আসেনি। তারা ভাবছেন খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে গতি বাড়লে বাজারে ধানের দাম বাড়বে। এতে সকল কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
তাহিরপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অজয় কুমার দে বলেন, এ বছর লটারীর মাধ্যমে কৃষক সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে করে সাধারণ কৃষকরা ধান সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছে। তবে ধান সংগ্রহের গতি আরো বাড়ানো দরকার।
উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রামের পরাণ শুক্লবৈদ্য বলেন, আমি ২৫ মণ ধান সরকারি গুদামে ১০৪০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। সরকারের কাছে ধান বেচতে পারব, জীবনে এমন ভাবিনি।
বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুজ জহুর বলেন, লটারীর মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করায় সবাই খুশি। তবে ঈদের আগে সব ধান কেনা উচিত।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, লটারীর মাধ্যমেই প্রকৃত কৃষকরা এ বছর সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। ধান সংগ্রহে গতি কম থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি মৌখিকভাবে বলেছি ঈদের আগে আরো ৩শ থেকে ৪শ টন ধান সংগ্রহ করতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, আমি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর কে বলেছি ধান সংগ্রহের গতি বাড়াতে। আশা করছি হাওরপাড়ের কৃষকদের সুবিধার্থে ঈদের আগেই কাঙ্খিত ধান সংগ্রহ করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, ইতিমধ্যেই ধান সংগ্রহ বাড়ানো হয়েছে। ঈদের আগে আরো ধান সংগ্রহ করা হবে।