তাহিরপুর শহীদমিনারে ড্রেজারের পাইপ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা

বিশেষ প্রতিনিধি
আগামীকাল (শুক্রবার) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসের প্রথম প্রহর থেকেই ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে যাবেন সকলে। কিন্তু সুনামগঞ্জের তাহিরপুর শহীদ মিনারের সামনের প্রধান ফটকে পাইপ লাগিয়ে পেছনে সরকারি জমিতে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। এই নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা জনতা। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে পাইপ সরানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাহিরপুর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনে সরকারি জমিতে কয়েকদিন হয় মাটি ভরাট শুরু হয়েছে। শহীদ মিনারের প্রধান ফটক দিয়ে পাইপ ঢুকিয়ে মাটি উচুঁ করে পেছনে পাইপ নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার এই শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসবে হাজারো শিশু শিক্ষার্থীসহ মুক্তিযোদ্ধা জনতা। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত ওই পাইপ ওখানেই রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রৌজ আলী বলেন, যখন পাইপ বসানো হয়েছে, তখনই বাধা দেওয়া জরুরি ছিল। এখন একদিনের মধ্যেই এই পাইপ সরাতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। ঠিকাদার কীভাবে সরাবে এবং প্রশাসন কীভাবে সরাবেন, তারাই ভাল বুঝবেন।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের লোকজনকে আমরা বলে এসেছি, আজকের মধ্যে পাইস সরিয়ে নিতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বীজেন ব্যানার্জী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঢাকার বিশ^াস বিল্ডার্স’র স্থানীয় দেখভালকারী লোকজনকে ডেকে এনে শহীদ মিনারের মূল ফটক থেকে পাইপ সরিয়ে অন্যদিকে বসানোর জন্য বলে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, সকালে তাহিরপুর থানার সাবইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবীর এসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছেন, তাঁর সঙ্গে মাটি ভরাটকারীদের সখ্যতা রয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখছেন।
সাবইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবীর বলেন, ইউএনও সাহেব মাটি ভরাট করতে বাধা দেওয়ায় তিনি বিষয়টি মধ্যস্ততা করার চেষ্টা করেছেন। ওখানে মাটি ভরাট কাজও শেষ। কেবল পাইপ খুলে নেওয়া হবে। ওদেরকে আগামীকালের মধ্যেই পাইপ খোলে শহীদ মিনারের পথ পরিস্কার করে দেবার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। ওরা পরিস্কার না করলে, যেহেতু আমি মধ্যস্ততা করেছিলাম, আমার উদ্যোগেই আমি পরিস্কার করে দেব।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিশ^াস বিল্ডার্স ’এর প্রধান প্রকৌশলী বিশ^ কুমার সাহা বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) দিনের মধ্যেই পাইপ খুলে প্রধান ফটক পরিস্কার করে দেবেন তাঁরা।