তাহিরপুর সদর হাসপাতাল, ৭ মাস আগে ভবন উদ্বোধন হলেও কাজে আসছে না এটি

আমিনুল ইসলাম,তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শষ্যার নতুন ভবন উদ্বোধন হলেও কার্যক্রম শুরু হয়নি। উদ্বোধনের পর ৭ মাস পার হলেও কেবল ভবনই দেখছেন উপজেলাবাসী।
গত ২৫ জানুয়ারি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর ডাক্তার, নার্স, স্টাফ পদায়ন সহ স্বাস্থ্য সেবার মান কিছুটা বাড়বে এই প্রত্যাশা করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এখনো ৫০ শয্যা হাসপাতালের জন্য নতুন কোন কিছু চোখে পড়েনি স্থানীয়দের। পুরনো ভবনেই স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। একারণে ৫০ শয্যা হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী।
স্বাধীনতাত্তোর সময় থেকেই তাহিরপুর উপজেলায় ৩০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে ।
অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউএইচএফপিও সহ ৬ জন চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রামের মোফাজ্জল মিয়া বলেন, নতুন ভবনের কাজ শুরু করলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা একটু আরাম আয়েশে থাকতে পারবে।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন উদ্দিন বলেন, অনেকদিন হল নতুন ভবন উদ্বোধন হয়েছে, কিন্তু ভবনের কোন কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেডিকেল অফিসার সুমন বর্মন বলেন, পুরনো ভবনে বসার স্থান সংকট রয়েছে।
তাহিরপুরের ইউএইচএফপিও ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, লোকবল ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের সংকটের কারণে নতুন ভবনে কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে অবহিত করেছি।
তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী খসরুল আলম বলেন, তাহিরপুর উপজেলায় তিন লাখ মানুষকে একজন চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা দেবে এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি তাহিরপুর হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান ও ডা. তানভীর আনসারির প্রেষলাদেশ বাতিল করে তাদের মূল কর্মস্থল তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেরৎ পাঠানোর দাবি জানান।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, তিনি সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেছেন এই দুই ডাক্তারকে মূল কর্মস্থলে প্রত্যাবর্তন করানোর জন্য।
সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস জানালেন, ডাক্তার সংকট থাকায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাহিরপুরের ডাক্তারদের প্রেষণে অন্যস্থানে নিয়েছেন। তাহিরপুরবাসী দাবি করছেন তাদেরকে স্ব স্ব কর্মস্থলে পাঠানোর জন্য। আমিও মনে করি ডাক্তার পেলেই তাঁদের স্ব স্ব কর্মস্থলে পাঠানো জরুরি।