তাহিরপুর সরকারি খাদ্য গোদাম- দখলে প্রবেশদ্বার

বিশেষ প্রতিনিধি
বৌলাই নদীর তীর ঘেষেই তাহিরপুর উপজেলার দুই খাদ্য গোদাম। ৫০০ মে.টন করে ১০০০ মে.টন ধান- চালের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই গোদামের মূল ফটক দিয়ে ঠেলাগাড়িও প্রবেশ করে না। ট্রাক অনেক দূরে রেখে মজুর বা শ্রমিকরা মাথায় করে গোদামে বস্তা আনা নেওয়া করে থাকেন। খাদ্য গোদামের প্রবেশ পথের এমন করুণ অবস্থা জেলার আর কোথাও নেই। স্থানীয়রা বললেন,‘সরকারি খাদ্য গোদামে ধান চাল নিয়ে এসে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে বহুদিন ধরে। এটি কেউ দেখছে না, খাদ্য গোদাম কর্তৃপক্ষও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানালেন, ১৯৭৮ সালে নির্মিত উপজেলা খাদ্য গোদামে হাওরপাড়ের কৃষকরা এক সময় গরুর গাড়ীতে করে ধান নিয়ে আসতেন কৃষকরা। গোদামের ফটকের সামনে গাড়ি রেখে সহজেই গোদামে ধানের বস্তা ঢুকিয়ে দিতেন। এখন অনেক দূরে গাড়ি রেখে মাথায় করে ধানের বস্তা গোদামে নিতে হচ্ছে। বিক্রেতাদের বাড়তি খরচ হচ্ছে, সময়ও বেশি লাগছে। শুরুতে গোদামের সামনের সড়কের প্রশস্ততা ছিল ১২ ফুটের মতো, এখন ৪ ফুটের চেয়েও কম।
তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গোদামের প্রবীণ শ্রমিক সুধন চন্দ্র বিশ্বাস বললেন,‘১৯৯০ সালে খাদ্য গোদামের প্রবেশ মুখের বাম দিকে সরকারি একটি নলকূপ ও মোকাম ছিল্। ঐ নলকূপের পানি তাহিরপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করতো। সরকারি নলকূপটি এক সময় নষ্ট হয়ে গেলে কেউ আর সেটি মেরামত করেনি। ঐ সময় পশ্চিম দিকের দোকানের মালিক ছায়দুল কিবরিয়া, আতিকুর রহমান এই জমি তাদের ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে নেন। জমিটি সরকারি না কী ব্যক্তি মালিকানাধীন এটি আমাদের জানা নেই।’
গোদামের আরেক শ্রমিক শৈলেন দাস বললেন, ‘গোদামে প্রবেশের ডানদিক ও বামদিকের প্রায় ৫ হাত করে জমি উভয়দিকের মালিকরা দখলে নিয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে সুনামগঞ্জ – তাহিরপুর সড়ক যোগাযোগ হওয়ায় জেলা শহর থেকে সরাসরি চালের ট্রাক তাহিরপুর খাদ্য গোদামে আসে। এই ট্রাক বাজারের গলিতে রেখে চাল নামানোর সময় সরু গলির পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েন। শ্রমিকদের গালাগালি করেন পথচারীরা। শ্রমিকদেরও প্রায় ২০০ গজ মাথায় করে নিয়ে গোদামে বস্তা ঢুকাতে হয়। ট্রাক রাখার জমি খাদ্য গোদামের জায়গা না থাকলে জমি অধিগ্রহণ করে হলেও এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।’
গোদামের সামনের দোকান মালিক আতিকুর রহমান বললেন,‘আমি সরকারি কোন জমি দখল করিনি। রেকর্ডিয় জমিতে আমার দোকান ঘর করা হয়েছে। ২.৫৮ শতাংশ জমির ২.৪ শতাংশ আমার দখলে আছে।’
দোকান মালিক সাইদুল কিবরিয়া বলেন,‘সড়ক পথে মালামাল ঢুকানোর রাস্তা ছাড়াই তাহিরপুর খাদ্য গোদাম হয়েছে। গোদামের রাস্তা কেউ দখল করেনি। বরঞ্চ গোদামে মানুষের রেকর্ডিয় জমি ঢুকেছে। বাজারের গলিতে এভাবে গোদাম করা ঠিক হয়নি।’
তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গোদাম কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন,‘গোদামের সামনের পুরো জমিই জেলা প্রশাসনের এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত। কিন্তু সরকারি খাদ্য গোদামের ট্রাক বাজারের গলিতে রেখে মালামাল ঢুকাতে হয়। ট্রাকে চাল নিয়ে আসলে পথচারীদের সমস্যা হয় বুঝলেও আমাদের করার কিছু থাকে না। নৌকায় চাল নিয়ে আসলে কোন সমস্যা হয় না।’
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্নেন্দু দেব বলেন,‘খাদ্য গোদাম বাজারের পাশে হওয়ায় এবং এর সড়ক না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। বাজারের কাগজপত্র দেখে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে হবে।’