তাহিরপুর সীমান্ত দিয়ে আসছে ভারতীয় গরু ও মাদক

তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুর উপজেলার ট্যাকেরঘাট ও চানঁপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তের ওপার থেকে ভারতীয় গরু, মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, চুনাপাথর, কয়লাসহ ভারতীয় বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে আসছে বলে জানা গেছে।
ট্যাকেরঘাট সীমান্তের অনেকেই জানান, ট্যাকেরঘাট ও চাঁনপুর সীমান্ত দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে মাদকসহ চোরাচালানী পণ্য আসা বন্ধ থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে বর্তমানে মাদকের উপদ্রব বেড়ে গেছে। ট্যাকেরঘাট ও চাঁনপুর বিজিবির পক্ষ থেকে জেল খাটা মাদক মামলার আসামীদের অলিখিত সোর্স বানিয়ে প্রতিনিয়ত সীমান্তের ওপার থেকে গরু, মদ, গাঁজা, ইয়াবা চুনাপাথর ও কয়লা পাচারের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্যাকেরঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে। তবে, ট্যাকেরঘাট বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন তিনি এসবের সাথে জড়িত নন। সীমান্ত এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, ট্যাকেরঘাট সীমান্তের ট্যাকেরঘাট বিজিবির নামে রজনী লাইনের ফিরোজ মিয়া ও চানঁপুর বিজিবি ক্যাম্পের পক্ষে চাঁনপুর গ্রামের বক্কার মিয়া এসব চোরাই পণ্য থেকে প্রতিনিয়ত প্রতি গরু থেকে তিন হাজার, চুনাপাথর থেকে প্রতি হ্যান্ডট্রলি ৭০ টাকা, মদ, ইয়াবা ও গাঁজা থেকে সপ্তাহে ১০ হাজার করে উৎকোচ নিচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে বিজিবি মদ, গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয়ে সীমান্তের লোকজন মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
শুক্রবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ট্যাকেরঘাট সীমান্তের রজনী লাইনের বরুঙ্গা চড়া, চানপুর সীমান্তের পাগলা চড়া ও বড়গোফ টিলা সহ একদিক স্পট দিয়ে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড সদস্যের নেতৃত্বে চাঁনপুর গ্রামের লাল মিয়া টেইলার, আবুল কাসেম ও কালামের নেতৃত্বে ওপার থেকে গরু, মদ, ও চুনাপাথর আনা হচ্ছে।
অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে বড়ছড়া কয়লা শুল্কস্টেশনের জিরো পয়েন্টসহ একাধিক স্পট দিয়ে ভারতে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, মোরগ, তেল, ডিম, মোবাইল সিম সহ বাংলাদেশী অনেক পণ্য।
সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুল এহেছান বলেন, ‘তাহিরপুর সীমান্তের বাগলী শুল্কস্টেশন দিয়ে চুনাপাথর বৈধভাবে বাংলাদেশে আমদানী হচ্ছে। এ শুল্কস্টেশন ব্যতিত পুরো সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার দ্বারা বেষ্টিত। এসব স্পট দিয়ে কোন চোরাচালানী হওয়ার সুযোগ নেই।’
এসময় তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।