তুফানখালি ও বোয়ালিয়ার বাঁধ- নিয়ম মানছে না পিআইসি

আবু হানিফ চৌধুরী, দিরাই
দিরাই উপজেলার বৃহৎ হাওর ভরাম হাওরের বোরো ফসলরক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দুটি বাঁধ তুফানখালি ও বোয়ালিয়া। এ বাঁধ দুটি নির্মাণের জন্য তুফানখালিতে তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে ০.৪৫০ কি.মি. বাঁেধর জন্য প্রায় অর্ধকোটি ও বোয়ালিয়ার বাঁেধর জন্য দুটি প্রকল্পের অনুকূলে ০.৩৫০ কি.মি. বাঁধের জন্য প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাঁধ নির্মাণের নির্ধারিত সময়সীমা আজ (২৮ শে ফেব্রুয়ারি) শেষ হলেও এই    দুইটি বাঁধে কাজ হয়েছে অর্ধেকের একটু বেশী।
সরেজমিন মঙ্গলবার বাঁেধ গেলে দেখা যায়, বাঁধ নির্মাণ কাজের কোন নীতিমালাই মানছেন না প্রকল্প কমিটির সদস্য (পিআইসি)। বাঁধে দুরমুজ করার কথা জানে না প্রকল্প কমিটি, নেই স্লোপিং, বাঁেধর কাজে পাওয়া যায় না কমিটির সদস্যদের। এস্কেভেটর মেশিন ও ট্রাক দিয়ে দুটি বাঁধেই এলোমেলোভাবে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। বাঁধ দুটির নির্মাণের জন্য ৫টি প্রকল্প কমিটির ২৫জন সদস্যের মধ্যে ২ জন ছাড়া কাউকেই বাঁেধ পাওয়া যায়নি। মাটি ভরাটের সাথে সাথে বাঁধে দুরমুজ করার কথা থাকলেও কোন বাঁেধই দুরমুজ করা হচ্ছে না।
দুরমুজ করছেন না কেন, জানতে চাইলে ১নং প্রকল্প কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন জানান, দুরমুজ করার কথা আমাদেরকে কেউ বলেনি। প্রকল্প কমিটির সভাপতি রাজা মিয়া মাঝে মাঝে বাঁেধ আসেন। এরই মধ্যে বাঁধে সাংবাদিক এসেছে খবর পেয়ে মোটর সাকেলযোগে বাঁধে আসেন রাজা মিয়া। এসে তিনি বলেন, আমার সেক্রেটারী মাদকাসক্ত, না বুঝে বলেছে দুরমুজ করার কথা জানে না। আমরা কাজ শেষ হলে দুরমুজ করবো।
২নং প্রকল্পে ৪-৫জন শ্রমিক কোদাল দিয়ে একটু আধটু কাজ করতে দেখা গেলেও প্রকল্প কমিটির কাউকেই পাওয়া যায়নি।
কাজের শ্রমিকরা জানান, বাঁেধর কাজ শুরু থেকেই তারা এখানে কাজ করে আসলেও কখনো বাঁধে দুরমুজ করেননি বা করতে দেখেননি।
একই বাঁেধর ৩নং প্রকল্প কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ মিয়া জানান, আমরাও কাজ শেষ হলে দুরমুজ করবো।
বোয়ালিয়া বাঁধে গিয়ে দেখা যায় একই অবস্থা, প্রকল্প কমিটির কোন সদস্যকেই সেখানে পাওয়া যায়নি। এস্কেভেটর মেশিন ও ট্রাক দিয়ে বাঁেধ মাটি ফেলা হচ্ছে। অধিকাংশ জায়গায় এখনও কোন মাটি পড়েনি। ৫জন শ্রমিক কুদাল দিয়ে  মাটি ড্রেসিং করছেন।
শ্রমিকরা জানান, এখানেও দুরমুজ করা হয়নি। আবুল হোসেন নামে একজন জানান, বাঁেধর কাজ তদারকি করার জন্য প্রকল্প কমিটির সভাপতিরা (৭নং প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য রাশেদ মিয়া ও ৮নং প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল হক) বেতনধারী হিসেবে উনাকে রেখেছেন। সভাপতিরা কাজে দিরাই গেছেন।
ইউপি সদস্যদের মোবাইল ফোনে বার বার ফোন দেয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে তাড়ল ইউনিয়নের বৈশাখী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ১১(ক) এর সভাপতি হোসেন মিয়াকে কাজে অনিয়মের দায়ে আটক করা হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।