তুমিই তো সেই

রোকেস লেইস
আবহমান, তুমিই তো সেই
কাজল ভোরে কল্প-কথায়
কুয়াশা কাতর আল-পথে
দৃপ্ত পদে লাঙল কাঁধে
পৌষের মাটিতে চাষ দাও
নিমগ্ন, অগাধ মমতায়
বুনো, আগামী সম্ভার।

ধাবমান স্রোতের উজানে
দৃঢ়তায় তুমিই তো সেই
হাল ধরে অহঙ্কারে
উন্মাতাল জলরাশি
নিঃশঙ্ক পারি দাও।

শ্রমিকের মজুরের শ্রমে ঘামে
নিরবধি, তুমিই তো সেই
অন্তর নিংড়ানো নিষ্ঠায়
মমতায় বিশ্বস্ততায়
গড়ে তোল শিল্প-বিলাস।

কামারের কুমারের ছুতোরের
সাধনায়, তুমিই তো সেই
অনাদি থেকে অন্তরের
কালজয়ী কৃষ্টির
নব নব সৃষ্টির উদ্ভাসে
আপ্লুত হও, পূর্ণতায়।
পলি জমা এ ভূভাগে
বিশ্বাসে উল্লাসে
নিরন্তর, তুমিই তো সেই
তিল তিল উচ্ছ্বাসে
মুক্তির, মুক্ত আকাশের
পরিমিতি খোঁজ
খোঁজ স্বাতন্ত্র, মানচিত্র।

সহস্র বছরের অঙ্কুরের
স্ফূরণের, তুমিই তো সেই
তুমি প্রগাঢ় সত্ত্বায়
কোটি মানুষের আকাক্সক্ষায়

তোমার বিন¤্র বজ্র আহ্বানে
কৃষকের হাতে থ্রি-নট-থ্রি
শ্রমিকের হাতে এল.এম.জি
মজুরের হাতে হ্যান্ডগ্রেনেড
মাঝির মুষ্টিতে বিমান বিধ্বংসী
মারণাস্ত্র, উঠে আসে অবলীলায়।

আপামর জনতার
প্রতিভু, তুমিই তো সেই
স্ব-মহিমায়
উত্থিত হলে, প্রোথিত হলে
কোটি হৃদয়ের মনি-কোঠায়।