তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহবান

স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় শোক দিবস যথাযথভাবে পালন ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ সভা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের পুরাতন জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও অঙ্গ সংগঠনের জেলা কমিটির দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নান্টু রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, জুনেদ আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বর্মন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইয়ামিন চৌধুরী, জেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার, জেলা শ্রমিক লীগের আহবায়ক সেলিম আহমদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শোয়েব চৌধুরী।
সভায় বক্তারা বলেন,‘স্বাধীনতা বিরোধী চক্র আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখি ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গুজব রটানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের আহত করছে। তাই আগামীতে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ ও সকল অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধারণ মানুষের মাঝে তোলে ধরতে হবে। দলের নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করতে হবে। সরকার হটানোর ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে হবে। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করতে হবে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে করতে হবে। আগামী নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় কাজ করতে হবে। ’
মতিউর রহমান বলেছেন, ‘ছাত্ররা যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। তারা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছে। ন্যায়ের দাবিতে আন্দোলন করা ভাল। তবে আন্দোলন যেন ভিন্নখাতে প্রবাহিত না হয়। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছে। আন্দোলনের নামে গুজব সৃষ্টি করলে তা প্রতিহত করতে হবে। উস্কানী দাতাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়তে হবে সবাইকে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে এই সভা করা হয়েছে।’
ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেছেন, ‘প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আগস্টের কর্মসুচির মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে হবে আমরা ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। আমরা জেনেছি ইচ্ছা করে ঢাকায় দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া হয়েছিল। অনেক ছাত্রকে প্রশিক্ষণ দিয়ে রাস্তায় নামানো হয়েছিল। কামাল গং সুশিল-কুশিলরা বিদেশীদের সাথে চক্রান্ত করে সরকার হটানোর নীল-নশকা করেছিল। তারেক জিয়াকে দেশে আনার চক্রান্ত করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার চক কষেছিল। আগস্ট মাসে ষড়যন্ত্র আসবে, সবকিছু মোকাবিলা করার জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ সভা আমরাই প্রথম করেছি।’
কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী জেলার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জাতীয় শোক দিবস যথাযথভাবে পালন ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয়ে বিশেষ সভা করার জন্য আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানান- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাড. আপ্তাব উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, অ্যাড. সফিকুল আলম, পিপি ড. অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, জেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অভিজিৎ চৌধুরী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মফিজুল হক, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল আজাদ রুমান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আজাদুল ইসলাম রতন, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সীতেশ তালুকদার মঞ্জু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নিগার সুলতানা কেয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, আল আমিন চৌধুরী, রেজাউল আলম নিক্কু, অ্যাড. মলয় চক্রবর্তী রাজু, অ্যাড. হাসান মাহবুব সাদী, নিজাম উদ্দিন, আতিকুল ইসলাম আতিক, অ্যাড. কল্লোল তালুকদার চপল, জেলা কৃষক লীগের আহবায়ক আব্দুল কাদির শান্তি মিয়া, যুগ্ম আহবায়ক গৌতম কুমার বণিক, শাহ আলম শেরুল, জেলা শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম মুবিন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছালমা আক্তার চৌধুরী, সদর উপজেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব মুহিবুর রহমান মুহিব, সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জমিরুল হক পৌরব, জেলা ছাত্র লীগের সহ সভাপতি দেওয়ান জিসান রেজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ সুজন, শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের জেলা শাখার আহবায়ক নূর মোহাম্মদ স্বজন প্রমুখ।
এছাড়া আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগের জেলা উপজেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।