তেলীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- মাটিতে বসে পাঠ গ্রহণ

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়নের তেলীগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট, বসার বেঞ্চ ও টিউবওয়েল না থাকা এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। ভবনের কক্ষ সংকট আর বসার বেঞ্চ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়। বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৫১৬ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রয়েছেন ৩ জন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের জন্য ৮জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন ৩ জন শিক্ষক। ১৯৪৮ সালে ৫৪ শতাংশ ভূমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়্ এবং ১৯৭৩ সালে এ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বিদ্যালয়ের ভূমির উপর বর্তমানে ২টি ভবন থাকলেও একটি টিনসেড ভবন ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ৫ বছর পূর্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সহ মূল ভবনের ৫টি কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীরা গাদাগাদি করে ক্লাস করছে।
সোমবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙ্গা বারান্দা আর মূল ভবনের বারান্দার মাটিতে বসে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা দিচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। বিদ্যালয়ের ভবনের ভিতরের ৪টি কক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ বসার বেঞ্চ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা গাদাগাদি করে পরীক্ষা দিচ্ছে আর শিক্ষকরা দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে বারান্দা আর কক্ষের ভিতরে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষকরা জানান, ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩জন শিক্ষক দিয়ে ৫টি শ্রেণি কক্ষে ক্লাস করাতে গিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র রৌদ্র পাল, সুস্মিতা রায় জানায়, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত বসার বেঞ্চ আর বিল্ডিং না থাকায় তারা খুব কষ্টে ক্লাস করছে। যারা আগে বিদ্যালয়ে আসে তারা গাদাগাদি করে কক্ষের ভিতরে বেঞ্চের মধ্যে বসতে পারে, আর না হয় বারান্দায় মাটিতে বসে ক্লাস করতে হয় তাদের।
বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ঝুলন্ত দাস ও রাবিদ হাসান বলে, বিদ্যালয়ে টিউবওয়েল না থাকায় তাদের বিশুদ্ধ পানি খাওয়ার কোন ব্যবস্থা নাই। তারা পানি খেতে চাইলে বিদ্যালয়ের পাশর্^বর্তী বাড়ি থেকে এনে পানি খেতে হয়। ভাঙ্গা পরিত্যাক্ত ঝুকিপূর্ণ বিল্ডিংয়ে ক্লাস করতে তাদের খুব ভয় লাগে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিবেক পাল, দাতা পিযুষ পাল জানান, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম বিদ্যালয়টি এটি। কিন্তু দু;খের বিষয় বিদ্যালয়ে শিক্ষক, ভবন, বিশুদ্ধ পানির বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি নেই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শোয়েব আহমদ জানান, শিক্ষক সংকট, বেঞ্চের অভাব, নতুন ভবন নির্মাণ ও সুপেয় পানির দ্রুত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ৮জন শিক্ষকের মধ্যে আছেন মাত্র ৩ জন। তিনি এ বিদ্যালয়ে নতুন যোগদান করেছেন, বদলিকৃত প্রধান শিক্ষক এসব বিষয়ে কোন লিখিত আবেদন করেছেন কিনা জানেন না। তবে, বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক পাঠদান চালু রাখতে ১জন শিক্ষক প্রেষণে দেয়ার জন্য আবেদন জানাবেন তিনি। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের প্রচুর জায়গা রয়েছে, পুরাতন ঝুকিপূর্ণ টিনসেড ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ, বেঞ্চ ও টিউবওয়েল বসানো দ্রুত প্রয়োজন।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন, তেলীগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিউবওয়েল নেই বিষয়টি তিনি অবগত নন। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি টিউবওয়েল বসার ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি জানান।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু সাঈদ জানান, তেলীগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যার বিষয়ে তাকে কেউ এতোদিন জানায়নি। নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলেই এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক দেয়া হবে। বিদ্যালয়ের এসব সমস্যার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক একটা প্রেয়ার দিলে তিনি এটা উপরে পাঠাবেন এবং এ বিদ্যালয়ে দ্রুত ১জন শিক্ষক প্রেষণে দেয়ার চেষ্টা করবেন।