তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুরে নির্মমভাবে শিশু হত্যার ঘটনার মোটিভ উদ্ঘাটনের জন্য কিছু আলামত জব্দ করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান সোমবার শিশু তোফাজ্জলের দাদার ফুফাতো ভাই (সম্পর্কে তোফাজ্জলের দাদা) রাসেল মিয়ার শোবার খাটের পাশের ছোট ওয়ারড্রব থেকে একটি রক্তভেজা লুঙ্গি ও বালিশের কাভার উদ্ধার করেছেন। এদিকে, এ ঘটনায় আটক ৭ জনেরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার আদালত রিমা- মঞ্জুর করেছেন।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম বাঁশতলার জুবেল হোসেন’এর বাড়ী ও আশপাশের আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে গিয়ে তল্লাসী চালান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল। জুবেল হোসেনের আত্মীয় ঘটনার পর গ্রেফতার হওয়া হাবিবুর রহমান হবি মিয়া ও তার ছেলে রাসেল মিয়ার বাড়ীও তল্লাসী করেন পুলিশ সুপার। এসময় রাসেল মিয়ার শোবার খাটের পাশের ছোট
ওয়ারড্রবে একটি রক্তভেজা লুঙ্গি ও বালিশের কভার পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
পুলিশ সুপার বলেন, রাসেলের শোবার ঘরের ঠিক সামনেই তোফাজ্জলের বস্তাবন্দি বিভৎস লাশ পাওয়া যায়। রাসেলের শোবার খাটের পাশে একটি বাথরুম আছে, যে কোনো সময় কাপড় চোপড় ধোয়াও সম্ভব। এই ওয়ারড্রবে ভেজা কাপড় পেয়ে আমাদের সন্দেহ হয়েছে, নিয়ে এসেছি। যেহেতু মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত চলছে, এজন্য এই বিষয়ে এখন আর কিছু বলতে চাই না।
এদিকে, তোফাজ্জলকে নির্মমভাবে খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক রাসেল মিয়া ও ফুফু শিউলী বেগমকে আদালত ৫ দিন এবং সেজাউল কবির ও তার বাবা কালা মিয়া, হাবিবুর রহমান হবি মিয়া, চাচা সালমান মিয়া ও লোকমান মিয়ার ৩ দিনের রিমা- মঞ্জুর করেছেন আদালত।
কোর্ট ইন্সপেক্টর আশেক সুজা মামুন জানান, সোমবার এই ৭ জনকেই জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পালের আদালতে হাজির করে পুলিশ রিমা-ের আবেদন জানায়। শুনানী শেষে আদালত ২ জনের ৫ দিন এবং অন্যদের ৩ দিনের রিমা- মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত. তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম বাঁশতলার জুবেল হোসেন’এর ছেলে ৭ বছরের শিশু ৪ দিন নিখোঁজ ছিল। শনিবার ভোর রাতে শিশুটির চোখ উপড়ে ফেলা পা ভাঙা অবস্থায় বস্তাবন্দি লাশ জুবেল হোসেন’এর বাড়ীর সামনেই পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জুবেলের ফুফু-ফুফা ও চাচাসহ ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই দিনই আটক করে পুলিশ।