থেকান খাইতে খাইতে শেষ

স্টাফ রিপোর্টার
বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে জেলা শহর থেকে উপজেলার যোগাযোগের প্রধান প্রধান সড়কগুলেরা অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তায় চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছেন গাড়ি চালক ও যাত্রীরা।
সিএনজি চালক ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর, লাউড়েরগড় ও সাচনা যাওয়ার রাস্তার একাধিক জায়গায় ভাঙ্গন ও ছোট ছোট অনেক গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে এসব এলাকায় যোগাযোগের বাহন সিএজি, লেগুনা ও মোটরসাইকেলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ থেকে লাউড়েরগড় যাওয়ার রাস্তায় সিএনজি চালক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, রাস্তায় ছোট ছোট গর্তসহ অনেক ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গা রাস্তায় গাড়ি চালানোর মত অবস্থায় নেই। অনেক সময় সিএনজির চাকা, স্পেন্ডেল, রেইসার ভেঙ্গে যায়।
সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুরের রাস্তায় সিএনজি চালক মো. মুস্তাকিম বলেন, বন্যায় রাস্তার অনেক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে আনোয়ারপুর ব্রীজ সংলগ্ন অনেকটা জায়গাজুড়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় আমরা সরাসরি তাহিরপুরে সিএনজি নিয়ে যেতে পারছি না। এছাড়াও সুনামগঞ্জ থেকে আনোয়ারপুর যাওয়ার রাস্তার বেহাল অবস্থা। অনেক জায়গায় ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। এই ভাঙ্গায় গাড়ি চালানোর ফলে গাড়ির অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে কয়েকদিনেই গাড়ির বিয়ারিং নষ্ট হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ- সাচনা রাস্তার সিএনজি চালক মো. জসিম বলেন, গত কয়েকদিন আমরা গাড়ি চালাতে পারি নাই। এখন কিছুটা পানি কমায় অনেক কষ্ট করে সিএনজি চালাচ্ছি। ভাঙ্গা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেক সময় সিএনজি উল্টে যায়।
গাড়ি চালক ছাড়াও একাধিক যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায় জেলা শহর থেকে যারা অন্য উপজেলায় চাকরী করছেন তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। ভাঙ্গা রাস্তায় চলাচল করতে হয় তাদের। অনেক কষ্ট করে যেতে হয় কর্মস্থলে।
ধনপুর বাজারের ব্যবসায়ী ছুরহাব মিয়া বলেন, বন্যার পানিতে রাস্তার অনেক জায়গার গর্ত ও ভাঙ্গনের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকদিন যাবৎ শহর থেকে দোকানের মালামাল নিতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের বাগবেড় গ্রামের ষাটোর্ধ যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ি বাগবেড়। জেলা শহরে আসছি দরকারে। আসার সময় শরীরের উপর যে ধকল গেছে এখন আর বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে হচ্ছে না। শরীরের গিড়ায় গিড়ায় ব্যথা করছে।
এছাড়াও ভাঙ্গা রাস্তায় চলাচল করতে নারীরা অসুবিধায় পড়েছেন। বিভিন্ন দরকারে অফিস আদালতে আসা নারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন বেশি। সরকারি চাকুরীজীবী নারীরাও পড়েছেন বিপাকে।
জেলা ফলিত পুষ্টি গবেষণা কেন্দ্রের সহকারি পুষ্টি গবেষক সুর্পনা দেব ও তানজিনা আক্তার বলেন, ধনপুর ইউনিয়নের মেরুয়াখলা মাদ্রেসায় প্রতিদিন পুষ্টি বিষয়ে ক্লাস নিতে হয় তাদের। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ার কারণে গত ৩ দিন ডিউটিতে যেতে পারেন নি তারা। এখন কিছুটা পানি কমলেও রাস্তার বেহাল দশা। ঝুঁকি নিয়ে ভাঙ্গা রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।
জেলা শহর থেকে বাগবেড় যাওয়া মোচ্ছাম্মৎ বিলকিস আক্তার ও সরুফা খাতুন বলেন, বাড়ি থাইকা আওয়ার সময় থেখান খাইতে খাইতে শেষ। কোমরে বিষ করতাছে। এই ভাঙ্গা রাস্তা দিয়া রোগী লইয়া সদর হাসপাতালে আওয়ার কোনো কুদরত নাই।