দক্ষিণ সুনামগঞ্জে দেশি জাতের মাছের অভাব

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দেখারহাওর, জামখলার হাওর, বীরগাঁওয়ের দক্ষিণের হাওরসহ কোনো হাওরেই এবছর এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছের দেখা মিলছে না।
তাই এই উপজেলায় সাধারণ ভোক্তাদের তুলনায় দেশি জাতের মাছের খুব অভাব দেখা দিয়েছে। যেসব মাছ পাওয়া যায় তা কিনতে হয় দ্বিগুন দামে। দেশীয় জাতের মাছ ক্রয় করা এখন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।
শিং, কৈ, মাগুর, পুটি, টেংরা, মেনি, চিংড়ি, শোল, গজার, টাকি, বাইম, মলা ও ঢেলা মাছসহ কোনো দেশি প্রজাতির মাছ এখন সহজলভ্য নয়। এই মাছগুলো বাজারে না আসায় কিংবা প্রয়োজনের তুলনায় কম আসায় বিদেশি মাছ বিশেষ করে খামারের মাছেই চাহিদা মেটাচ্ছে মানুষ।
মাছের এমন সংকট কেনো জানতে চাইলে ক্রেতাদের এক কথায় জবাব, হাওরে পানি ঢুকেনি এখনও। তাই মাছ কম পাওয়া যায় বা পাওয়া যাচ্ছে না। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা দেশী মাছ সিলেট বা ঢাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন বেশি দাম পাওয়ার আশায়। তাই দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। দামও বেশি।
সোমবার বিকালে উপজেলার চিকারকান্দি বাজার, রবিবার বিকালে ডুংরিয়া বাজার ও পাগলা বাজারের মাছের বাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মাছ বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও দেশি মাছের তেমন একটা আমদানী নেই। চিকারকান্দি ও ডুংরিয়া বাজারে কিছু কিছু দেশি মাছের দেখা মিললেও পাগলা বাজারে দেশি মাছ ছিল না বললেই চলে। পাগলা বাজার ছাড়া অন্য দুই বাজারে দেশি মাছ মিললেও দাম খুব চড়া ছিল। মাছ পছন্দ হলেও দামের কারণে কিনতে পারেন নি অনেকে।
পাগলা মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, কম পরিমাণে দেশি মাছ বাজারে আসছে। জেলেদের দাবি হাওরে পানি যত বেশি বাড়বে তত বেশি দেশি মাছ বাড়বে। সাধারণ জেলেদের ধারণা এ বছর হাওরে দেশি মাছ কম হবে। পাগলা বাজারের বাসস্ট্যান্ড মাছবাজারে দেশি মাছের তুলনায় খামারের মাছই বেশি দেখা যায়। তবে দেশি মাছের কয়েকটি দোকান থাকলেও মাছের দাম ছিলো বেশি। চিকারকান্দি ও ডুংরিয়ার বাজরে দেশি মাছ থাকলেও দাম বেশি ছিল। মাছের খুব একটা যোগান ছিলো না। কম মাছ আসে এসব বাজারে তাই বিকালে বাজার বসে এবং প্রায় সময় সন্ধ্যার আগেই এই বাজারগুলোর হাট শেষ হয়ে যায়।
এদিকে উপজেলার পাথারিয়া ও নোয়াখালী বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই বাজারগুলোতেও দেশি মাছের দাম অনেক বেশি। আগের তুলনায় কম দেশি মাছ মিলছে। রাণী মাছ তো একেবারে বিলুপ্তির পথে। তাই তারা বিকল্প হিসেবে ব্রয়লার মুরগি অথবা খামারের মাছ দিয়েই তরকারির এই প্রধান উপাদানের চাহিদা মিটিয়ে থাকেন।
চিকারকান্দি বাজারে গিয়ে কথা হয় মৎসজীবী শাহ জামাল ও জাকির হোসেনের সাথে। তারা জানান, হাওরে এখনো পানি ঢুকেনি। নতুন মাছ এখনো অনেক ছোট। আরো মাসখানেক সময় গেলে পরেই মাছের আনাগোনা বাড়বে। তবে এখন মাছের দাম তেমন একটা বেশি না।
তবে পাগলা বাজারের ইছহাক আলী নামের এক মাছ ক্রেতা জানান, দেশি মাছের দাম খুব বেশি। দেশি মাছের বদলে আমরা এখন ফার্মের মাছই খাচ্ছি।
ডুংরিয়া শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা আক্সগুর আলী বলেন, ‘আমাদের বাজার খুব একটা বড় বাজার না। দেশি মাছ না আসায় পাগলা বাজার থেকে দু’চারজন ব্যবসায়ী পাঙ্গাস মাছ নিয়ে আসেন। বিকালে ঠেলা জালের কয়েকজন মানুষ মাছ বিক্রি করলেও এই মাছের দাম থাকে। সকলে কিনতে পারেন না। গরিবরাতো পারেই না। দেশি মাছ খাওয়ার ইচ্ছা হলে গরিবদের নিজে মাছ ধরে খেতে হয়।’
পাথারিয়া বাজারের আব্দুল মান্নান ও নোয়াখালী বাজারের ব্যবসায়ী আবুল খয়ের জানান, ‘ছোটমাছ বাজারে এখন কিছু কিছু আসছে। তবে দাম তুলনামূলক বেশি। হাওরে পানি আসেনি। পানি এলে মাছ বাড়বে আর দামও কমবে।’