‘দফ’ এলাকার অবৈধ জলাধার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

হাছননগর মুসলিম হোস্টেলের সামনের রাস্তার দক্ষিণ দিকে, বর্তমানে শহীদ আবুল হোসেন রোডের পূর্ব প্রান্তে কিছু ভূমি ছিল যা স্থানীয়ভাবে ‘দফ’ নামে পরিচিত। এই এলাকা বছরের বেশির ভাগ সময় জলমগ্ন থাকতো। দেড় বা দুই দশক আগে থেকে এই ‘দফ’ এলাকায় গড়ে উঠা শুরু হয়েছে বসতি। ‘দফ’ এর মূল মালিক বা মালিকগণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ করে এই এলাকার বৃহৎ অংশ বিক্রি করেছেন। শহরে বসতি স্থাপনে আগ্রহী নিম্নমধ্যবিত্ত চাকুরিজীবী বা অন্য পেশার লোকজন ছোট ছোট ভূমিখণ্ড কিনে এখানে বসবাসের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন সেই দুই দশক আগে থেকেই। ইতোমধ্যে এই এলাকায় বেশ কয়েকটি বাসা বাড়ি গড়ে উঠেছে। সেইসব বাসা বাড়িতে মানুষ বসবাসও শুরু করেছেন। আরও যারা জায়গা কিনেছেন তারাও ঘর বানানোর চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন। কিন্তু বাধ সেধেছে এই এলাকাটিতে গড়ে উঠা দুইটি অবৈধ মৎস্যখামার। খামারীরা পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়ে এলাকাটিকে কৃত্রিম জলাধারে পরিণত করে মাছ চাষ শুরু করেছেন বেশ কয়েক বছর আগে থেকে। এতে করে পুরো এলাকাটি এখন প্রচণ্ড জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে আছে। যারা ইতোমধ্যে এই এলাকায় বসতি স্থাপন করেছেন তাদের জন্য এই কৃত্রিম জলাধারটি একটি বড় যন্ত্রণার নাম হয়ে উঠেছে। যারা বাসাবাড়ি বানাবেন বলে স্থির করেছেন তারাও পড়েছেন বিপাকে। সারা বছরই পানি থাকায় এখানে নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারছেন না তারা। সবচাইতে মজার বিষয় হলো কৃত্রিম জলাধারটি গড়ে উঠেছে অনেকের ব্যক্তিগত জায়গার উপর। পরের ধনে পোদ্দারি করা নামে যে বাংলা প্রবচনটি রয়েছে তার যথার্থ প্রয়োগ দেখা যাবে হাছননগরের এই ‘দফ’ এলাকায় গেলে। যার জমি তার কোন অধিকার নেই নিজের জমির উপর। যিনি পানি আটকিয়ে মাছ চাষ করছেন তিনিই যেন পুরো এলাকার জামিদার। বসতি স্থাপনকারীরা দুর্বল হওয়ায় তারা অবৈধ মৎস্যখামারীদের বাধাও দিতে পারছেন না।
গত বৃহস্পতিবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে এলাকায় জমি কিনেছেন এমন এক ব্যক্তির বক্তব্যমতে, জায়গা কেনার পর তিনি ১১ মাস এলাকায় যেতে পেরেছেন। কিন্তু এখন বছরের ১২ মাসই কোমর সমান পানি থাকে। এই সমস্যা নিয়ে তিনি অনেকের কাছে গিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। আরেকজন বলেছেন, ঘর বানানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও পানি আটকে থাকায় তিনি কোন মালামালই নিতে পারছেন না। প্রতিবেদনসূত্রে জানা যায়, ‘দফ’ এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য শান্তিবাগ এলাকার যে খালটি রয়েছে, মাছচাষীরা সেটি বন্ধ করে রাখেন। অন্যদিকে পৌরসভার ড্রেনের মুখ ‘দফ’ এলাকার চাইতে উঁচু হওয়ায় আটক পানি ড্রেন দিয়েও নিষ্কাশিত হয় না। এতে ওই এলাকার বাসা-বাড়িগুলোর অধিবাসীরা কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে আছেন।
বিষয়টির সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। অন্যের জমিকে আরেকজন কৃত্রিম জলাধার করে মাছ চাষ করতে পারেন না। তার নিজের জমি যদি থাকে তবুও অন্যের অসুবিধা করে তিনি পানি আটকে রাখতে পারেন না। এই সমস্যার সমাধানের জন্য যারা জমি কিনেছেন তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। এলাকাটি যেহেতু পৌরসভার অন্তর্গত তাই তারা পৌর মেয়রের শরণাপন্ন হতে পারেন। সামাজিক উদ্যোগে সমস্যার সমাধান না হলে ভুক্তভোগীরা আইনি পন্থায়ও প্রতিকার চাইতে পারেন। ‘দফ’ এলাকায় মাছ চাষের নামে এখন যা হচ্ছে সেটি অন্যায়। পৌর কর্তৃপক্ষকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় বসতদার ও বসতি স্থাপনকারীরা পৌরসভার নাগরিক। তাদেরকে সহায়তা দান করা পৌরসভার দায়িত্ব।