দরগাহ্পুর সেতু ভেঙে জনদুর্ভোগ- ৩৬ ঘণ্টা পরও ট্রাক উদ্ধারের কাজ শুরু হয়নি

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-মদনপুর-দিরাই-শাল্লা সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম যোগাযোগ দুর্ভোগে পড়েছেন দিরাই-শাল্লা উপজেলাবাসী এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জের একাংশের মানুষ। বুধবার সকাল ৮ টায় সড়কের ২৫ কিলোমিটার অংশের দরগাহ্পুর গ্রাম পার্শ্ববর্তী বেইলী সেতু ভেঙে পড়ায় এই সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের একাংশসহ প্রায় ৫ লাখ মানুষের একমাত্র যোগাযোগ সড়কের এই সেতু ভাঙায় গত দুই দিন ধরেই সড়কে চলাচলকারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্পেটিংয়ের কাজের মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ভারী ট্রাকসহ বেইলী সেতু ভেঙে যায়। এরপর থেকে এই দুই উপজেলাসহ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার একাংশের সঙ্গে জেলা শহরসহ সারাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়। সেতু ভেঙে পড়ার ৩৬ ঘণ্টা পরও (বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত) দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটিও উদ্ধার হয়নি। ভেঙে পড়া সেতু মেরামতের কাজও শুরু হয়নি। অথচ. সেতুর দুই পাশে দিরাই-ঢাকা, দিরাই-সুনামগঞ্জ, দিরাই-সিলেট সড়কে চলাচলকারী অসংখ্য যানবাহন, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং মালামাল বহনকারী ট্রাকও আটকা পড়েছে। স্থানীয়রা বলেছেন- কেবল দুর্ভোগ নয়, দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করে যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া না হলে এলাকায় নিত্যপণ্যের মূল্যও বেড়ে যাবে।
দিরাই উপজেলা পরিষদে কর্মরত সরকারী কর্মকর্তা মাসুদ জামান খান বলেন,‘সুনামগঞ্জ থেকে এসে আমরা যারা দিরাইয়ে অফিস করি, তারা সকলেই বেকায়দায় পড়েছি, সরাসরি গাড়ি না চলায় ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা’। একই মন্তব্য করলেন ব্যাংক কর্মকর্তা শামীম আহমদ।
দরগাহ্পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজেশ তালুকদার বলেন, ‘পথচারী ভেঙে ভেঙে আসায় ভাড়া বেশি গুনতে হচ্ছে।’sunamgonj-pi
দিরাই পৌরসভার চাঁনপুরের বাসিন্দা খায়রুনন্নেছা বললেন, ‘আমরা রোগী নিয়ে রওয়ানা দিয়েছিলাম। এখন অ্যাম্বুলেন্স এখানে এসে আটকা পড়েছে। বাকী জায়গা কীভাবে যাব আমরা, আমাদের রোগীর অবস্থাও সংকটাপন্ন।’
লেগুনা চালক মো. আমিরুল হক বলেন,‘সেতু ভাঙায় কিছু মানুষ এখানে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। গ্যাস আনার জন্যও সিএনজি অটোরিক্সা চালক বা মোটর সাইকেল চালকরা সুনামগঞ্জে যেতে পারছে না। মোটর সাইকেল ৫০ থেকে ১০০ টাকা এবং সিএনজি অটোরিক্সা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দিলেই কেবল এরা পারাপারের সুযোগ দিচ্ছে। তারা সাইকেল ওঠা-নামা করতে একটু সহায়তা করেই এই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর জিয়াউল ইসলাম বললেন, ‘চাঁদাবাজির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে, কোনভাবেই যানবাহন পার করার নামে এতো টাকা নিতে দেওয়া হবে না।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম দ্রুত বেইলী সেতু নির্মাণের চেষ্টার কথা জানিয়ে বললেন,‘আমরা দিরাইসহ যেখানে যেখানে বেইলী সেতুর সরঞ্জামাদি রয়েছে, সেগুলো আজকের মধ্যে দরগাহ্পুর সেতু এলাকায় নিয়ে আসবো এবং দ্রুতই সেতু বসানোর কাজ শেষ করবো।’



আরো খবর