দাওয়াতি হাডুডু খেলা

স্টাফ রিপোর্টার
‘দাওয়াতি ভাইয়াপি হাডুডু’ খেলা যেন হাজারো মানুষের প্রাণের উৎসব। ভালো বৈশাখী হলে (বোরো ধান ভাল হলে) এই উৎসব জমে ওঠে। সুনামগঞ্জ শহরতলির মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর-জগন্নাথপুর মাঠে মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর এই প্রাণের উৎসব হয়। শত বছর আগে এই দাওয়াতি হাডুডু উৎসব শুরু হয়েছিল। ভবানীপুর গ্রামের মাঠে এবারের উৎসবে কমপক্ষে ২০ টি গ্রামের হাডুডু খেলোয়ারসহ দর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।
খেলার আগে ৩ টি গরু জবাই করে গ্রামের ঘরে ঘরে মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়। যারা দাওয়াতি খেলায় আসবেন, কারা কোন গ্রামের দাওয়াতিদের খাওয়াবেন, আপ্যায়ন করবেন এসব নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। দাওয়াতিদের আম, কাঁঠাল, পিঠা, পায়েশ খাইয়েও অনেকে আপ্যায়ন করেন।
ভবানীপুর-জগন্নাথপুরবাসীর দাওয়াতে এবার হাডুডু’র এই উৎসবে এসে যোগদান করেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কাইক্কারপাড়, জয়কলস, জগজ্জীবনপুর, আস্তমা ও মদনপুর গ্রামের খেলোয়াররা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া, আসামপুর, বুড়িস্থল, হাছনবাহার, লালপুর, জলালপুর, দুর্লভপুর, মাধবপুর, রামেশ্বরপুর, আলমপুর, বাওনেরপাড় নোয়াগাঁও গ্রামের খেলোয়ার ছাড়াও হাজারো মানুষ এই দাওয়াতি হাডুডু খেলার দর্শক ছিলেন।
ভাইয়াপি দাওয়াতি হাডুডু খেলার অন্যতম আয়োজক ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ জানালেন, জগন্নাথপুর-ভবানীপুর গ্রামবাসী নিজেদের মধ্যে চাঁদা তোলে এই খেলা ও খাবার-দাবারের আয়োজন করে আসছে শত বছর আগে থেকেই। গ্রামের ইউসুফ আলী বললেন, সকলেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে দাওয়াতিদের যার যার সাধ্যমত আপ্যায়ন করেন।
গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মোশাহিদ আলী জানালেন, এই উৎসবে আত্মীয়-স্বজনরা এসেও যুক্ত হয়। যাদের দাওয়াত দেওয়া হয়, তারাও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে আসে। গ্রামের ঐতিহ্য হিসাবে এখন বিবেচনা করা হয় এই হাডুডু উৎসবকে।