দিনে ট্রলি-ট্রাক্টর দেখলে ৯৯৯ এ ফোন দিন

দিনের বেলা শহরের রাস্তায় ট্রলি বা ট্রাক্টর চলাচল নিষিদ্ধ করে পুলিশ প্রশাসন একটি ভাল কাজ করেছেন। এই নির্দেশনাটি অনুসৃত হলে শহরবাসীর চলাচলে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। দেশের প্রচলিত আইনে পাওয়ারপাম্প সংযুক্ত এসব যানবাহনের কোনো বৈধতা না থাকলেও সারা দেশেই এগুলো চলাচল করছে। সম্ভবত আইনের চাইতে চাহিদার গুরুত্ব বেশি। নিকট পাল্লার মালামাল পরিবহনে এসব যান বেশ উপযোগী এবং সাশ্রয়ী। ফলে এসব অবৈধ যানবাহনের একটি চাহিদা গড়ে উঠেছে। এই চাহিদার কারণেই অবৈধ এই যানটি শহর দাপিয়ে বেড়াতে পারছে। কিন্তু একই সাথে এ কথা সত্য যে, এই যানের ক্ষতিকারক দিকগুলো সম্পর্কে সতর্ক থেকে এর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের দিকে যাওয়াটাই হল উত্তম। পুলিশ প্রশাসন ঠিক এ কাজটিই করেছেন। তাঁদেরকে ধন্যবাদ।
ট্রলি বা ট্রাক্টরগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইট, মাটি বা বালু পরিবহন করে। ইট, বালি ও মাটি পরিবহনের সময় চলাচলের রাস্তায় পরিবহিত পণ্যের কিছু অংশ রাস্তায় পড়তে থাকে। এতে সড়কে ধুলার আস্তরণ জমে। পুরো শহরটি এখন ধুলার শহরে পরিণত হয়েছে। শহরের এমন কোনো রাস্তা নেই যেখানে ধুলার আক্রমণ নেই। নির্মাণ কাজের জন্য আনা ইট-বালি-পাথর ইত্যাদি সড়কের কিনারে সংরক্ষণ ও এইসব অবৈধ ট্রলি-ট্রাক্টর সুনামগঞ্জকে ধুলোর শহরে পরিণত করেছে। শুকনা মৌসুমে ধুলোর আক্রমণে শহরবাসীর অবস্থা হয় বেসামাল। এলার্জির সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিরা সড়কে বেরোলেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। জামাকাপড় ময়লা হওয়ার বিড়ম্বনা তো উপরি পাওনা মাত্র। শুধু ধুলোর কারণে অনেকেই পারত পক্ষে ঘর থেকে বের হতে চান না। পৌরসভা যদি শুকনো মৌসুমে রাস্তায় অন্তত দুই বেলা পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতেন তাহলে এই ধুলোর বিড়ম্বনা থেকে শহরবাসী কিছুটা হলেও নিষ্কৃতি পেতেন।
অবৈধ ট্রলি-ট্রাক্টরগুলো সড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এছাড়া এগুলোর অতিরিক্ত শব্দ জনস্বাস্থ্যের জন্য খুব বেশি ক্ষতিকারক। প্রায়শই এদের কারণে ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটে বিভিন্ন সড়কে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা এই ট্রলি-ট্রাক্টরকে দানবের মত ভয় করে। শিশুদের পথ চলাকে ভীষণভাবে বিপদজনক করে তুলেছে এই যানগুলো। তাই শহরের সচেতন মানুষ এক বাক্যে এইসব অবৈধ যানবাহন যাতে সড়কে চলাচল করতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিয়মিত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছেন। গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু মানুষের এসব দাবির প্রতি কখনও স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ বিশেষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। এ নিয়ে শহরবাসীর ক্ষোভের অন্ত ছিল না। শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দিনের বেলা ট্রলি ট্রাক্টরের চলাচল নিষিদ্ধ করায় মানুষ খুশি হয়েছেন।
এখন এই নির্দেশ প্রতিপালনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ প্রশাসন বিশেষ করে ট্রাফিক বিভাগকে এই নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পৌর কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে উদ্যোগী ভূমিকায় নামতে পারেন। পৌর কর্তৃপক্ষেরই দায় বেশি বলে আমরা মনে করি। কারণ পৌরবাসীর নাগরিক অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্য বিধান করার ম্যান্ডেট অর্পিত হয়েছে তাদের উপর। এই ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান জানানো কর্তব্য। ট্রলি-ট্রাক্টরের মালিকরা বেশ প্রভাবশালী। যারা বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করেন তারাও চোরাগুপ্তাভাবে দিনের বেলায়ও এইসব যানবাহন ব্যবহার করতে চাইবেন। তাই নির্দেশ বাস্তবায়নে পুরো পৌরশহরে নজরদারি বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন। তারা যদি দিনের বেলা কোনো রাস্তায় ট্রলি ট্রাক্টর চলাচল করতে দেখেন তাহলে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে অথবা স্থানীয় পুলিশ বা ট্রাফিক কর্তৃপক্ষকে ফোন দিয়ে জানিয়ে নাগরিক কর্তব্য পালন করতে পারেন। পুলিশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই নাগরিকদের পক্ষ থেকে তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক উপযুক্ত ব্যবস্থা নিবেন।