দিরাইয়ের পদ্মবিলকে পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণা

দিরাই প্রতিনিধি
দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পদ্মকানন হিসেবে পরিচিত শতবর্ষী পদ্ম বিলকে সরকারিভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টায় বিলের পাড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহিদুল আলমের সভাপতিত্বে ও চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রতন কুমার তালুকদারের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসকের সহধর্মিনী লুবনা আফরোজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ শফিউল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হারুন উর রশীদ, সহকারী কমিশনার ফয়সল রায়হান, ফারজানা আক্তার ববি, আক্তার জাহান সাথী, গাজালা পারভীন রুহী, মঞ্জুর আলম, ইউপি চেয়ারম্যান শিবলী আহমদ বেগ, এহসান চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জগদীশ সামন্ত, প্রেসক্লাব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ চৌধুরী, অনলাইন প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোশাহিদ আহমদ, রনধীর দাস, অসীম কুমার দাস প্রমুখ।
এরপর ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে উপজেলার জগদল, সরমঙ্গল ও চরনারচর তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম বলেন, ‘জলজ-ফুলে’র রানী পদ্ম। পদ্মফুলের দেশ বাংলাদেশ। এখন আর এ ফুল সচরাচর দেখা যায় না। কবির কবিতায় আর লেখকের গল্পেই আমরা পদ্মফুলের দেখা পাই। কিন্তু এ হাওর জনপদের বিশাল একটি সরকারী বিলে শতবছরেরও বেশী সময় ধরে এ ফুল ফুটে আসছে। আমি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর, গতবছর একটি প্রোগ্রামে এ বিলের পাড় দিয়ে যাওয়ার পথে শতশত নয় হাজার হাজার ফুটন্ত পদ্ম আমাকে বিমোহিত করেছিলো। গাড়ি থেকে নেমে আমি নয়নভরে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম এ বিলটিকে যদি সরকারীভাবে প্রকল্প গ্রহণ করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলা যায়, তাহলে কবির ‘সেই সাত প্রহরের বিল, যেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভিমরুল খেলা করে’ সুনামগঞ্জেই সকলকে দেখানো সম্ভব। এ পদ্মবিলকে সরকারীভাবে বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে আকর্ষণীয় করে তোলা হবে। পদ্ম কাননটি দেখার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসবেন। বেসরকারীভাবে আবাসিক রির্সোট স্থাপনের জন্য এলাকাবাসীকে আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য ৭.৩৩ একর সরকারের খাস খতিয়ানের জায়গার এ বিলে শতবছর পূর্ব থেকে পদ্মফুল ফুটে আসছে। প্রাকৃতিকভাবেই বিশাল এ জায়গা জুড়ে পদ্মফুল ফুটে থাকে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।